অবৈধ ভাবে পুকুর বুজিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুরসভার তরফে বুধবার সেই জলাশয় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ হল। এই ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে বাধা আসায় দক্ষিণ দমদম পুর এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লিতে দিনভর ছিল উত্তেজনা।
বিবেকানন্দ পল্লির ওই পুকুরটিকে বুজিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এ দিন জলাশয় পুনরুদ্ধারের কাজে প্রথমে বাধা পেলেও পরে পুকুর খনন করে আগের অবস্থায় ফেরানো হয় বলে পুর কর্তৃপক্ষ জানান।
দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সি জানান, সরকারি ওই জমিটিতে পুকুর ছিল। বিএলআরও দফতর থেকে সেই তথ্যই মিলেছে। বাসিন্দারা তো বটেই, এমনকি দক্ষিণ দমদম পুরসভার তৃণমূল প্রশাসনের তরফেও পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছিল। এ দিন যন্ত্রপাতি নিয়ে পুরকর্মীরা সেখানে যান। পৌঁছে যায় দমদম থানার পুলিশও। অভিযোগ, কাজ শুরুর সময়ে কর্মীদের প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়। পরে আরও পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গোটা বিষয়ে অভিযোগের তির সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি বিউটি হালদার, তাঁর স্বামী বিপ্লব হালদার ও তাঁদের পরিবারের দিকে। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুরপ্রতিনিধির স্বামীকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। পুরসভার তরফে তাঁকে তলব করা হলে এবং নথি চাওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।
এ দিকে, যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন পুরপ্রতিনিধি। তাঁর স্বামী বিপ্লবের পাল্টা দাবি, তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তা ছাড়া মৎস্য দফতরের নির্দেশিকাও দেখানো হয়। কিন্তু কিছুই মানেনি প্রশাসন। উল্টে তাঁদের হেনস্থা হতে হয়েছে। তাঁর আরও দাবি, এর আগে একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা আদালতের বিচারাধীন ছিল। ফের আরও একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুরসভা পরিদর্শন করে। এ দিন তাঁদের নথি-সহ দেখা করতে বলাও হয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল করে মঙ্গলবার জানানো হয়, পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে না দিলে কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করবেন। অথচ সে সুযোগ না দিয়ে প্রশাসন নিজেই সে কাজ করে গিয়েছে বলে ক্ষোভ বিউটি ও বিপ্লবের। তাঁরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান।