ব্যাঙ্কের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে যোগাযোগের শুরু। কয়েক মাস ধরে লাগাতার ফোন করে গ্রাহককে কখনও বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য, কখনও কেওয়াইসি বা সুদ সংক্রান্ত তথ্য দিতেন। গ্রাহকের মনে যাতে কোনও ভাবে সন্দেহ না জাগে, তার জন্য ফোন করতে একাধিক সিম ব্যবহার করতেন। গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করা হয়ে গিয়েছে বুঝতে পারলেই, মোবাইলে ‘এপিকে’ ফাইল ডাউনলোড করিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া হত মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের।
সম্প্রতি এমনই এক সাইবার প্রতারণা-চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার। অচেনা কারও পরামর্শে ‘এপিকে’ ফাইল মোবাইলে ডাউনলোড করার আগে গ্রাহকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এই ভাবে ২২ লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয়ে লালবাজারের সাইবার শাখায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। বছর পঞ্চান্নের ওই অভিযোগকারী হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তিনি লালবাজারের সাইবার শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই কলকাতা পুলিশের সাইবার শাখা একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগকারী পুলিশকে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে ব্যাঙ্কের আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রাখছিল এক ব্যক্তি। বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি পাঠিয়ে নিজেকে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিত সে। বিগত বেশ কয়েক মাস ধরে এ ভাবে চলতে থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই তিনি প্রতারককে ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি বলে ভাবতে শুরু করেন। অভিযোগ, বিশ্বাস অর্জন করতে গত কয়েক মাসে ২৫টিরও বেশি নম্বর থেকে ফোনকরা হয়েছিল। ওই সব নম্বর থেকে পাঠানো হত ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য। সেই তথ্যের ভিড়েই মোবাইলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ‘এপিকে’ ফাইল। প্রতারকেরা এর পরেইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের নাম করে অভিযোগকারীর মোবাইলে সেই ফাইল ইনস্টল করায়। এর পরেই ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে কয়েক দফায় ওই ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্টথেকে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওই ব্যক্তির।
গত কয়েক দিনে শহরের একাধিক মানুষ এই ভাবে সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেপুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিক ভাবে ব্যাঙ্কের আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন যোগাযোগ রেখে সাইবার প্রতারণার পিছনে নতুনচক্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন সাইবার তদন্তকারীরা। তাঁরা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন, ব্যাঙ্কের আধিকারিক পরিচয়ে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করার ক্ষেত্রে সিম বক্সের সাহায্য নিয়ে থাকতে পারে অভিযুক্তেরা।
প্রতারণার বিষয়টি নজরে আসার পরেই লালবাজারের কর্তারা অচেনা কারও পরামর্শে ‘এপিকে’ ফাইল মোবাইলে ডাউনলোড করার আগে গ্রাহকদের সতর্ক করছেন। ভুয়ো সরকারি নোটিস, বিয়ের নিমন্ত্রণের ডিজিটাল কার্ড, পুরস্কারেরপ্রলোভন দেখিয়ে বহু ক্ষেত্রে এপিকে ফাইল ডাউনলোড করানো হচ্ছে বলেও নজরে আসছে।লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘‘অজানা কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করাই ভাল। লিঙ্কে ক্লিক করার পরে যদি কোনও অ্যাপ বা ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়, সে ক্ষেত্রে কী কী অনুমতিচাওয়া হচ্ছে, সেগুলিও অবশ্যই দেখতে হবে।’’