কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচনের আগে আসন সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবারের জারি করা নির্দেশিকায় ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে তফসিলি জাতির জন্য ১২টি ওয়ার্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে চারটি ওয়ার্ড। তফসিলি জনজাতির জন্য কোনও ওয়ার্ড সংরক্ষিত হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন (আসন সংরক্ষণ) বিধি, ১৯৯৪-এর ৩ নম্বর নিয়ম অনুযায়ী দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেককুমার তিওয়ারি এই নির্দেশ জারি করেছেন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই সংরক্ষণের খসড়া প্রকাশের পর আপত্তি ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বুধবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ২৫, ৩১, ৫২, ৭৫, ১২৫, ১৪৪, ১৫৪, ১৫৮, ১৯২, ১৯৭, ২০০ এবং ২০১ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫, ৭৫, ১৫৪ এবং ১৯৭ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতির মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। অর্থাৎ এই চারটি আসনে তফসিলি জাতির মহিলা প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এর পাশাপাশি সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্যও একাধিক ওয়ার্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় ১, ৪, ৭, ১০, ১৩, ১৬, ১৯, ২২, ২৬, ২৯, ৩৩, ৩৬, ৩৯, ৪২, ৪৫, ৪৮, ৫১, ৫৫, ৫৮, ৬১, ৬৪, ৬৭, ৭০, ৭৩, ৭৭, ৮০, ৮৩, ৮৬, ৮৯, ৯২, ৯৫, ৯৮, ১০১, ১০৪, ১১০, ১১৩, ১১৬, ১১৯, ১২২, ১২৬, ১২৯, ১৩২, ১৩৫, ১৩৮, ১৪১, ১৪৫, ১৪৮, ১৫১, ১৫৫, ১৫৯, ১৬২, ১৬৫, ১৬৮, ১৭১, ১৭৪, ১৭৭, ১৮০, ১৮৩, ১৮৬, ১৮৯, ১৯৩, ১৯৬, ২০২, ২০৫ এবং ২০৮ নম্বর ওয়ার্ডকে সাধারণ মহিলা আসন হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে কলকাতা পুরভোটে মহিলা প্রতিনিধিত্বের জন্য মোট ৬৯টি আসন নির্দিষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নির্দেশিকা প্রকাশের ফলে ২০৯টি ওয়ার্ডের সংরক্ষণ সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট হল। এর ফলে পুরভোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। কোন ওয়ার্ডে কোন ধরনের প্রার্থী দাঁড়াতে পারবেন, তা এখন সরকারি নথিতেই নির্দিষ্ট হয়ে গেল।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, সংরক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। নতুন তালিকায় কোনও ওয়ার্ডের সংরক্ষণ বদলে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী বাছাইয়ের হিসেবও পাল্টাতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে কাজ করা সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে। রাজনৈতিক দলগুলির স্থানীয় নেতৃত্বকে তাই দ্রুত নতুন তালিকা খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলিতে মহিলা এবং তফসিলি জাতির প্রার্থীদের নিয়ে দলগুলির অন্দরে আলোচনা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী দিনগুলিতে। সংরক্ষণের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আরও গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নভেম্বর মাসের ২৮ তারিখে কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট হতে পারে। ফল ঘোষণা হতে পারে ২ ডিসেম্বর। উৎসবের মরসুম কাটতে না-কাটতেই কলকাতা ও হাওড়ায় ভোট হবে। প্রশাসনে এখন থেকেই ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর কলকাতা পুরসভার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। ওই দিনে তিনি নিজের বক্তৃতায় জানিয়েছিলেন ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভা নির্বাচিত বোর্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার সেই প্রতিশ্রুতি মতো রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।