প্রতি রাতেই নিয়ম করে মোটরবাইক নিয়ে বেরোত দুই যুবক। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে শিকার খুঁজত তারা। কোথাও রাস্তায় একাকী কাউকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখলেই সেটি ছিনিয়ে চম্পট দিত। মহিলাদের গলার হারও ছিনতাই করে পালাত ওই দুই দুষ্কৃতী। জোড়াবাগান থানায় দায়ের হওয়া একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগের তদন্তে নেমে এক যুবককে গ্রেফতার করার পরে তাদের যাবতীয় কীর্তিকলাপের কথা জানতে পেরেছেন লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ছিনতাই দমন শাখার তদন্তকারীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ছিনতাইকারীর নাম পল্লব ঘরামি। তাকে গত শনিবার গ্রেফতার করা হয়। পল্লবের বাড়ি মানিকতলা খালপাড়ে। তার কাছ থেকে একটি মোটরবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও জোড়াবাগান থানা এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া একটি সোনার হার এখনও উদ্ধার করা যায়নি। পল্লবের সঙ্গী যুবক এখনও পলাতক। তার খোঁজ চলছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তারা অন্তত ছ’টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে এক দিন প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন
এক প্রবীণ দম্পতি। নিমতলা ঘাট স্ট্রিটে হাঁটার সময়ে বৃদ্ধা কিছুটা পিছিয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময়ে মোটরবাইক নিয়ে সেখানে আসে পল্লব ও তার দুই সঙ্গী। বৃদ্ধা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর গলার হার ছিনিয়ে চম্পট দেয় ওই তিন দুষ্কৃতী। এক তদন্তকারী জানান, অভিযুক্তেরা প্রতি রাতেই ছিনতাই করতে বেরোত। কারও মাথাতেই হেলমেট থাকত না। তারা শহরের অলিগলি ঘুরে শিকার খুঁজত।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জোড়াবাগানের ঘটনার পরে দুষ্কৃতীরা বড় রাস্তা না ধরে বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে বাড়ি ফিরেছিল। ধৃতের দাবি, পুলিশের নজরদারি এবং সিসিটিভি-কে ফাঁকি দিতেই তারা অলিগলি দিয়ে যাতায়াত করত।
পুলিশের দাবি, ওই দিন ভোরে জোড়াবাগানে ছিনতাইয়ের আগে অভিযুক্তেরা আরও দু’টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল।