বৃষ্টি হলেই জলে ভিজছে মহকুমা হাসপাতালের বহির্বিভাগের একাংশ। শিশু বিভাগের সেই অংশটিতেই বসেন চিকিৎসক। এ হেন পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ সাময়িক ভাবে একতলার ফরেন্সিক বিভাগে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বহির্বিভাগ চালুর ব্যবস্থা করেছেন। তবে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীরা জানাচ্ছেন, কখনও বারান্দায়, কখনও অন্য বিভাগে বহির্বিভাগ চালানোয় চিকিৎসায় যেমন অসুবিধা হচ্ছে ,তেমনই বিভ্রান্ত হচ্ছেন সেখানে আসা শিশুদের অভিভাবকেরাও। কিছু দিন আগে শল্য চিকিৎসা বিভাগেও একই ভাবে জল পড়ার অভিযোগ উঠেছিল।
ব্যারাকপুর বি এন বসু মহকুমা হাসপাতালের পরিকাঠামোগত এই সমস্যাগুলি নিয়ে গত বুধবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে জানতে চেয়েছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তার আগের দিনই হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড থেকে পকসো মামলার নাবালিকা নির্যাতিতার কন্যাসন্তান চুরির চেষ্টা হয়েছিল। নজরদারি ক্যামেরার কাজ না করা নিয়েও অভিযোগ হয়েছিল।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ভিড় লেগেই থাকে। গত বৃহস্পতিবার বহির্বিভাগ দেরিতে শুরু হওয়া ও চিকিৎসকদের সময় মতো না আসা নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরে একটি অভিযোগ হয়। এমনকি, বহির্বিভাগের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো অনেকেই জানেন না, টিকিট কাটতে আধার নম্বর বাধ্যতামূলক। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও আধার কার্ড না আনায় চিকিৎসা না করিয়েই ফিরতে হয় অনেককে। শুক্রবার রোগীদের একাংশ দাবি জানান, আধার কার্ড সঙ্গে রাখার কথা গেট থেকেই প্রচার করা হোক। টিকিট কাউন্টারের প্রিন্টারে কালি না থাকা ও তার ফলে হাতে লিখে টিকিট দেওয়ার কথাও জানান কর্মীরা।
অভিযোগ, হাড়ের চিকিৎসা ও ফিজিয়োথেরাপির ঘরের সামনে রোগীদের বসার জায়গা থেকে চিকিৎসকের সংখ্যা— দুইই অপ্রতুল। নিয়োনেটাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসক কম থাকায় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতরে অভিযোগ হয়েছে। চিকিৎসকের অভাব শল্য চিকিৎসায়, দুয়ারে স্বাস্থ্যের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার গাড়িতেও। স্থানাভাবে যন্ত্রপাতিও ঠিক মতো ব্যবহারের উপায় থাকে না। অভিযোগ, ছোট ঘরে চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসক, নার্সদের। অনেক সময়ে রোগীকে নিয়ে আসা গাড়ি রাখতে হয় হাসপাতালের গেটের বাইরে। ডেটা এন্ট্রি বিভাগের অস্থায়ী কর্মীরা গত দু’মাস বেতন পাননি বলেও দরবার করেছেন কর্তৃপক্ষের কাছে।
হাসপাতালের সুপার সুদীপা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শিশুদের বহির্বিভাগের চিকিৎসা সাময়িক ভাবে অন্যত্র ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, বাকি সমস্যাগুলি পর্যবেক্ষণে আছে। সেগুলি সুরাহার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখছেন।’’ স্থানীয় বিধায়ক বলেন, ‘‘মহকুমা হাসপাতালের গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে রোগীর চাপ থাকে। পরিকাঠামোয় নজর দিতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামো ঠিক রাখতে হবে।’’