E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভিড়ের দোসর হাতে গোনা টিকিট বুকিং কাউন্টার, যাত্রীদের ক্ষোভ ঊর্ধ্বমুখী মেট্রোয়

এসপ্লানেড, দমদম, কালীঘাট, রবীন্দ্র সদন, শোভাবাজার, চাঁদনি চক— কোথাও ছবিটা আলাদা নয়। এর উপরে যাত্রীদের বিরক্তি আরও বাড়াচ্ছে স্টেশনের দুই প্রান্তে মাত্র একটি করে বুকিং কাউন্টার খোলা রাখার বিষয়টি।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ২৫ অগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৩
অপেক্ষা: উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশনে বন্ধ একাধিক কাউন্টার। একটির সামনেই টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন।

অপেক্ষা: উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশনে বন্ধ একাধিক কাউন্টার। একটির সামনেই টিকিট কাটার দীর্ঘ লাইন। — নিজস্ব চিত্র।

পুজো এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নানা প্রয়োজনে মেট্রোয় সফরের চাহিদা বাড়ছে যাত্রীদের। এঁদের মধ্যে যেমন আছেন স্কুল-কলেজ-অফিসের নিয়মিত যাত্রীরা, তেমনই রয়েছেন অনিয়মিত যাত্রীও। শনি এবং রবিবারেও মেট্রোয় ভিড় উপচে পড়ছে। আর এই প্রবল ভিড়ে বুকিং কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে অনিয়মিত যাত্রীদের। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, আধ ঘণ্টার মেট্রো সফরের জন্য কিউআর কোড যুক্ত কাগজের টিকিট পেতে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।

এসপ্লানেড, দমদম, কালীঘাট, রবীন্দ্র সদন, শোভাবাজার, চাঁদনি চক— কোথাও ছবিটা আলাদা নয়। এর উপরে যাত্রীদের বিরক্তি আরও বাড়াচ্ছে স্টেশনের দুই প্রান্তে মাত্র একটি করে বুকিং কাউন্টার খোলা রাখার বিষয়টি। এসপ্লানেড, দমদম, কালীঘাটের মতো স্টেশনে বুকিং কাউন্টার থেকে যাত্রীদের সর্পিল লাইন যাতায়াতের পথ আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ। কোথাও কোথাও এই লাইন চলে আসছে মূল রাস্তা পর্যন্ত।

বুকিং কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় কমাতে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিন থেকে কিংবা মেট্রো রেলের অ্যাপে টিকিট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব হল, সব যাত্রী এই ব্যবস্থায় সড়গড় নন। তাঁদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে বুকিং কাউন্টারের তুলনায় টিকিট পেতে সময় লাগে বেশি। কিছু ক্ষেত্রে একটি টিকিট পেতে বা স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করতে প্রায় এক থেকে দেড় মিনিট সময় লেগে যায়। ১০০ টাকার নোটে ভাঁজ বা দাগ থাকলে যন্ত্র সেই নোট ফিরিয়ে দেয়। কয়েকটি স্টেশনে টিকিট ভেন্ডিং যন্ত্রের সামনেও যাত্রীদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে।

গত বছরের অগস্টে কলকাতা মেট্রোর পূর্ব-পশ্চিম শাখা এবং নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর শাখা জুড়ে যাওয়ার পরে যাত্রী সংখ্যা অনেক বেড়েছে। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোয় দৈনিক এক লক্ষের বেশি এবং উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোয় দৈনিক পাঁচ লক্ষেরও বেশি যাত্রী সফর করছেন।

পুজোর মুখে ভিড়ের চাপ প্রতি বছরই বাড়ে। এই অবস্থায় মেট্রো পরিষেবার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বুকিং কাউন্টারের অপ্রতুলতায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। রাতে ৯টা ৫০ মিনিটের পরে সব স্টেশনে বুকিং কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বুকিং কাউন্টারের সংখ্যা না বাড়াতে পারার কারণ হিসেবে তীব্র কর্মী-সঙ্কটকেই দায়ী করছেন কর্তাদের একাংশ।

মেট্রোয় এখন দৈনিক যাত্রীদের প্রায় ৫৫ শতাংশ স্মার্ট কার্ড অথবা অন্য ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কেটে যাতায়াত করেন। কিন্তু, শনি এবং রবিবারের মতো ছুটির দিনে অনিয়মিত যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। আর বুকিং কাউন্টারের অভাব সেই সময়েই সমস্যা বাড়াচ্ছে। যাত্রীদের ক্ষোভ সামাল দিতে মেট্রোকর্মীদেরও প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।

তাঁদের দাবি, নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে খুচরো টাকার অভাবের সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে তাঁদেরও। মেট্রোকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, যাত্রীদের কেউ কেউ ৫০০ টাকার নোট ভাঙাতে টিকিট কাউন্টারে ভিড় করেন। মাসের মধ্যে একাধিক বার স্মার্ট কার্ড রিচার্জ করলেও প্রতি বার ন্যূনতম ১০০ টাকার রিচার্জ করে বাকি টাকা খুচরো হিসাবে পেতে চান তাঁরা। যাত্রীদের ওই অংশের এমন প্রবণতার জন্য কাউন্টারে ভিড় বাড়ার পাশাপাশি কর্মীদের উপরেও চাপ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন মেট্রোর এক কর্তা। সমস্যার সুরাহায় যাত্রীদের থেকেও সহযোগিতা চাইছেন তাঁরা। তবে, বুকিং কাউন্টারের সংখ্যা তলানিতে ঠেকার সমস্যা কী ভাবে মিটবে তার সদুত্তর দিতে পারেননি কর্তারা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Kolkata Metro Kolkata metro services Kolkata metro station ticket counter

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy