কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১৯ বছরের ছাত্রী প্রিয়া সমাদ্দার। মৃতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরের লেনিনগড়ে। শনিবার রাতে মৃতার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন ঘোলা থানার পুলিশকর্মীরা।
ঘোলা থানার অন্তর্গত বিলকান্দা-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উত্তর যোগেন্দ্রনগরের বাসিন্দা শ্যামল সমাদ্দার পেশায় দর্জি। তাঁর মেয়ে প্রিয়া এপিসি কলেজের কলা বিভাগের ছাত্রী। বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতায় পুজো দেখতে গিয়েছিলেন প্রিয়া। গিয়েছিলেন চোরবাগানেও। সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। প্রিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছোতেই শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।
প্রিয়া সমাদ্দার। —নিজস্ব চিত্র।
অন্য দিকে, আগরপাড়া থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে পুজো দেখতে এসেছিল ১৩ বছরের প্রাঞ্জল সরকার। ভিড়ের চাপে বাবা-মায়ের থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেনি সেও। যতক্ষণে তাকে উদ্ধার করা হয় ততক্ষণে সব শেষ। মৃতের মামা বলেন, ‘‘সারি সারি দেহ রাখা রয়েছে। ওর মুখটা দেখলাম। জুতোয় থেঁতলে গিয়েছে।’’
মৃতের তালিকায় রয়েছে নিউ টাউনের গৌরাঙ্গনগর নতুনপল্লি সুভাষসরণি এলাকার বাসিন্দা তানিয়া বিশ্বাস ও তাঁর এক বান্ধবী। দু’জনই একাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেলে তিন বান্ধবী ঠাকুর দেখতে গিয়েছিল। চোরবাগানে বিপর্যয়ের সময়ে ঘটনাস্থলেই ছিল তারা। সেখানেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তানিয়া ও তাঁর বান্ধবীর। মৃতদের বাড়িতে ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। ভিডিয়ো কলে ছবি দেখে তাদের দেহ শনাক্ত করে পরিবার। দুই বান্ধবীর মৃত্যু হলেও তাদের সঙ্গে থাকা অপর জন সুস্থ আছে।