ছিঁচকে চোরেরা এখন মোবাইল সফটওয়্যারে পারদর্শী হয়ে উঠছে বলে আদালতে দাবি করলেন সরকারি আইনজীবী। সম্প্রতি গার্ডেনরিচ থানা এলাকা থেকে একটি মোবাইল চুরির ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। চুরির পাশাপাশি ওই মোবাইলে থাকা অ্যাপের পাসওয়ার্ড সফটওয়্যারের মাধ্যমে বার করে লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী কিনে ফেলেছিল দু’জন।
আলিপুর আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি ওয়াটগঞ্জ থানা জিশান জাবেদ এবং শাহাবুদ্দিন খান ওরফে কাঁচি ফিরোজ নামে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাদের আলিপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে পেশ করা হয়। সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ওই দু’জন সম্প্রতি ওয়াটগঞ্জ থানা এলাকার এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করেছিল। সেটির সিম পরিবর্তন না করেই লেনদেন সংক্রান্ত অ্যাপের পাসওয়ার্ড খুঁজে বার করেছিল। তার পর একে একে জিনিসপত্র কিনতে থাকে তারা। সরকারি আইনজীবীর দাবি, তারা একটি চক্রের অংশ, যেটি সারা কলকাতায় সক্রিয়।
পুলিশ সূত্রের খবর, যে ব্যক্তির মোবাইল চুরি গিয়েছিল, তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরে নতুন মোবাইলে সিম ভরার পরে দেখেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের টাকা উধাও। এর পরেই তিনি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। মাত্র এক দিনের মধ্যেই ওই কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক সূত্রে পাওয়া যায়। এর পরে মোবাইলের সিমের অবস্থান খোঁজা হয়। একাধিক জায়গার পাশাপাশি যাদবপুরের একটি শপিং মলের অবস্থান মেলে। ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে শপিং মলের একটি ঘড়ির দোকানের হদিস পাওয়া যায়। সেখানে দু’জনে ১৮ হাজার টাকা দামের দু’টি ঘড়ি কিনেছিল। ওই দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে গার্ডেনরিচ থানা এলাকার বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন ওরফে কাঁচি ফিরোজকে শনাক্ত করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, কাঁচি ফিরোজ দাগি ছিঁচকে চোর। প্রায় দশ বছর পকেটমারি এবং ছিঁচকে চুরিতে সিদ্ধহস্ত ছিল। বন্দর এলাকার নানা থানার মামলায় প্রায় ৫০ বার জেল খেটেছে সে। বর্তমানে মোবাইল চুরির একটি চক্রের মূল মাথা ফিরোজ। তার অধীনে জনা পঞ্চাশেক মোবাইল চোর কাজ করে বলেও দাবি পুলিশের।
তদন্তকারীদের দাবি, বন্দর এলাকার মোবাইল সারাইয়ের দোকানের এক মিস্ত্রির সঙ্গে কাঁচি ফিরোজের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তার কাছ থেকেই গুগল এবং মোবাইল হ্যান্ডসেট থেকে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড বার করতে শিখেছিল ফিরোজ। সে এখন মোবাইল চুরির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাসওয়ার্ড বার করতে সক্ষম। তার পরে নানা জিনিস কেনা এবং নিজেদের চক্রের বিভিন্ন জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনলাইনে টাকা সরিয়ে ফেলার সমস্ত প্রক্রিয়া শিখে ফেলেছে সে। তবে চক্রের বাকি সদস্যদের বিষয়টি শেখায়নি সে।
সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এখন অধিকাংশ মানুষেরই মোবাইলে লেনদেনের অ্যাপ থাকে। মোবাইল চুরির পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হলে বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে সাধারণ মানুষকে। আদালতে পুলিশের তরফে দুই ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়। বিচারক তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।