তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়িতে রবিবার সকালে পৌঁছে গেল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে অশান্তির ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাঁর। এফআইআরেও নাম রয়েছে। সেই সূত্র ধরে ডেরেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস ধরিয়ে এল পুলিশ।
সূত্রের খবর, গত কাল, শনিবারও নোটিস ধরাতে ডেরেকের বাড়িতে এসেছিল পুলিশ। ডেরেক বাড়ি ছিলেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা। তখন নোটিস দিতে পারেনি পুলিশ। এর পর রবিবার সকালে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ডেরেকের বাড়ি যায় তারা। বাড়ির নীচে থাকা নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় তাদের। শেষে এক নিরাপত্তারক্ষীর হাতে নোটিস দিয়ে চলে যায় পুলিশ। সূত্রের খবর, সোমবার ডেরেককে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তলব করা হয়েছে।
শনিবার রাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে একই নোটিস ধরিয়ে আসে পুলিশ। তবে সেই নোটিস নিতে অভিষেককে বাড়ি থেকে বার হতে দেখা যায়নি। তাঁর অফিসের কোনও এক কর্মীর হাতে সেই নোটিস দিয়ে যায় পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিষেককে তলব করা হয়েছে। আর ডেরেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে সোমবার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর থেকে একটি বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন। তৃণমূলের নামাঙ্কিত সেই বিলবোর্ড অবৈধ ভাবে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরসভা জানায়, বিলবোর্ডটি বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। তাই তা খুলে নিতে গিয়েছিলেন আধিকারিকেরা। কিন্তু অভিষেক এবং তাঁর অনুগামীরা পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের সহযোগিতায় দফতরে ঢোকার সময় অশান্তি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে অভিষেকদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় তিনটি এফআইআর-ই দায়ের হয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানায়। তার মধ্যে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন পুরসভার আধিকারিক, অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। অভিযোগ, অভিষেকের দফতরে সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মারধর করা হয়েছে। এমনকি, মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা, শ্লীলতাহানির চেষ্টার মামলাও রুজু হয়েছে। অভিষেক ছাড়াও অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীরদের। সূত্রের খবর, রবিবারই বৈশ্বানর, হুমায়ুনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস দিতে পারে পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমে ধরপাকড় শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যেই অভিষেক, ডেরেকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করছে পুলিশ।