গ্রাহকের অজানতে তাঁর বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে তুলে নেওয়া হত মোবাইলের সিম কার্ড। সেই সিম কার্ড পৌঁছে যেত সাইবার প্রতারকদের হাতে। সেগুলির সাহায্যে চলত সাইবার প্রতারণা। অভিযোগ, গত দু’মাসে এমন বেআইনি সিম কার্ড ব্যবহার করে এক কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছিল প্রতারকেরা। বিষয়টি নজরে আসতেই বেআইনি সিম কার্ড চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করল লালবাজারের সাইবার শাখা।
লালবাজার সূত্রের খবর, গ্রাহকের পরিচয় ভাঁড়িয়ে নেওয়া সিম কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণা সংগঠিত করা দু’টি চক্র ইতিমধ্যে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। পৃথক চক্রের মাধ্যমে গত দু’মাসে যথাক্রমে ৮৩ লক্ষ এবং ২৬ লক্ষ টাকার মতো প্রতারণা করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। অভিযোগ, কখনও ডিজিটাল গ্রেফতারি, কখনও বিনিয়োগের মাধ্যমে মোটা লাভের প্রলোভন দেখিয়ে ফোন করা হত শহর বা শহরতলির বাসিন্দাদের। তাঁদের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নেওয়া হত টাকা। পুলিশ সূত্রের খবর, ২১ অগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক কোটি টাকার বেশি প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ মনে করছে, টেলিকম পরিষেবা সংক্রান্ত লেনদেনের সময়ে সংগ্রহ করা হত গ্রাহকদের ব্যক্তিগত নথি এবং বায়োমেট্রিক তথ্য। সে সব বেআইনি ভাবে ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নিত অভিযুক্তেরা। চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন টেলিকম সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটর, কর্মী, ছোট দোকানদার যুক্ত থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। বেআইনি উপায়ে সিম কার্ড তুলতে কমিশনের ভিত্তিতে ছোট দোকান, ডিস্ট্রিবিউটর বা সিম সেন্টারগুলিকে কাজে লাগানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। রাস্তা বা স্টেশনের আশপাশে ছোট ছোট কিয়স্ক করে বিনামূল্যে সিম কার্ড বিক্রি করা খুচরো বিক্রেতাও পুলিশের নজরে রয়েছে।
কিন্তু কী ভাবে সিম কার্ড হাতে পেত প্রতারকেরা? তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, কোনও গ্রাহক ‘কেওয়াইসি’ আপডেট করতে এলে বা নতুন সিম কার্ড নিতে এলে তাঁকে বায়োমেট্রিক দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের অজানতেই একাধিক বার তাঁর বায়োমেট্রিক নিয়ে নেওয়া হত। সেই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহককে অন্ধকারে রেখে তাঁর নামে একাধিক সিম কার্ড তুলে নেওয়া হত। সেই বেআইনি সিম কার্ড চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
বিষয়টি নজরে আসতেই নড়ে বসেছে লালবাজার। ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন সিম বিক্রয় কেন্দ্রে তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। চক্রে কারা রয়েছে, কোথা থেকে সিম সরবরাহ করা হয়েছিল, বিদেশের সাইবার অপরাধীদের সঙ্গে যোগ ছিল কিনা— তা দেখছে পুলিশ। লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ‘‘চক্রের জাল কত দূর ছড়িয়েছে, তা দেখা হচ্ছে। শহরে বসে কারা এই চক্রকে সাহায্য করছিল তা-ও দেখা হচ্ছে।’’