চম্পাহাটির বাজি মহল্লায় দুর্ঘটনার পরে শুরু হয়েছে পুলিশি তৎপরতা। বৃহস্পতিবার চম্পাহাটির পিয়ালিতে বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে দু’জন জখম হন। ওই রাত থেকেই হারাল-সহ আশপাশের গ্রামে পুলিশি তল্লাশি শুরু হয়। শুক্রবারও অভিযান চলে। পুলিশ সূত্রের খবর, এ দিন প্রায় ১০ বস্তা নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বেআইনি বাজি রাখার দায়ে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও পিয়ালির ওই বেআইনি কারখানার মালিক বাপি নস্কর এখনও অধরা।
এ দিন বাজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকও করে পুলিশ। কোনও ভাবে বেআইনি বাজি ব্যবসা চালানো যাবে না বলে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরেই কেবল দু’-এক দিন পুলিশের দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশি ধরপাকড় বেশি চলে হারালে। অভিযোগ, পুলিশের হাত থেকে বাঁচতেই বেআইনি ব্যবসা আশপাশেও ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণ হয় পিয়ালির ঘোলাঘাটায়। এ দিন প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ২০০ মাইল এলাকায় গিয়েও দেখা গেল, লুকিয়ে-চুরিয়ে বেআইনি কারখানা চলছে। প্লাস্টিকে ঘেরা একটি ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ল থরে থরে শব্দবাজি। কেন ঝুঁকি নিয়ে বাজি তৈরি করছেন? এক শ্রমিক বলেন, “বাজি না বানালে খাব কী?” তাঁর সংযোজন, “আমরা চকলেট বোমা বানাই। আমাদের এই বাজিতে দুর্ঘটনা ঘটবে না। যারা বেশি লোভ করে শেল বানাতে যায়, তারাই বিপদে পড়ে।”
বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, “তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ বেআইনি বাজি উদ্ধার হয়েছে। আগামী দিনেও অভিযান চলবে।”
এই পরিস্থিতিতে বাজি ক্লাস্টারের দাবি নতুন করে উঠতে শুরু করেছে। বাজি বিক্রির জন্য লোকালয়ের বাইরে বিক্রয় কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তবে, উৎপাদন কেন্দ্রের জমি চিহ্নিত হলেও সেই কাজ আটকে আছে। ক্লাস্টার কবে চালু হবে, প্রশাসনের উত্তর মেলেনি।