E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এমবিসি বৈঠক না হওয়ায় আতান্তরে নির্মাণ ব্যবসায়ীরা, থমকে কর সংগ্রহও

আগে মাসে দু’টি করে বৈঠক হত এমবিসি-র। বড় নির্মাণের নকশা জমা পড়লে এই কমিটি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তাতে ছাড়পত্র দিত। আট সদস্যের এমবিসি-তে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারেরা ছাড়াও দমকল, পুর ও নগরোন্নয়ন, সিইএসসি-সহ বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিকেরা থাকেন।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০২৬ ০৮:১৯
কলকাতা পুরসভা।

কলকাতা পুরসভা। — ফাইল চিত্র।

সাত কাঠার বেশি জমিতে নির্মাণের অনুমোদন দেয় কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটি (এমবিসি)। এই কমিটির শেষ বৈঠক হয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে। গত সাড়ে পাঁচ মাস আর বৈঠক না হওয়ায় ফাঁপরে পড়েছে একাধিক নির্মাণ সংস্থা। একই সঙ্গে, নতুন করে নির্মাণের অনুমোদন না-মেলায় কলকাতা পুরসভা মোটা টাকা রাজস্বও হারাচ্ছে। কবে এমবিসি-র বৈঠক হবে, সে বিষয়ে অন্ধকারে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকেরাও।

আগে মাসে দু’টি করে বৈঠক হত এমবিসি-র। বড় নির্মাণের নকশা জমা পড়লে এই কমিটি সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তাতে ছাড়পত্র দিত। আট সদস্যের এমবিসি-তে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজি এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারেরা ছাড়াও দমকল, পুর ও নগরোন্নয়ন, সিইএসসি-সহ বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিকেরা থাকেন।

বর্তমানে অনেক নির্মাতা নকশা অনুমোদনের জন্য পুরসভায় নথি জমা দিলেও তার কাজ হচ্ছে না। বিল্ডিং দফতর সূত্রের খবর, সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিস মিলিয়ে অন্তত দেড়শো ফাইল আটকে রয়েছে। এমবিসি-তে নির্মাণের ছাড়পত্র মিললে পুরসভা ‘ডিম্যান্ড ফি’ বাবদ বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু অভিযোগ, গত সাড়ে পাঁচ মাস এমবিসি-র বৈঠক না হওয়ায় কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পুর প্রশাসন।

পুরসভার রাজস্ব আদায়ের বেশির ভাগই সম্পত্তিকর ও বিল্ডিং বিভাগের উপরে নির্ভরশীল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের প্রথম পাঁচ মাসে সম্পত্তিকর আদায় কমেছে ১৩ কোটি ১ লক্ষ টাকা। পুরসভার কোষাগারের অবস্থা বেহাল। কর্মীদের বেতন দিতে পুরসভাকে মোটা টাকা ব্যয় করতে হয়। তার উপরে ঠিকাদারদের পাওনা রয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এই অবস্থায় এমবিসি বৈঠক না হওয়ায় রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ তলানিতে ঠেকেছে বলে অভিযোগ।

পুরসভা নিযুক্ত লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার (এলবিসি) তথা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার বলেন, ‘‘বৃহৎ পরিমাণ জায়গা জুড়ে নতুন নির্মাণের অনুমোদনে পুরসভা অনেক টাকা আয় করে। গত পাঁচ মাসের বেশি সময় এমবিসি বৈঠক না হওয়ায় সেই আয় হচ্ছে না। অন্য দিকে বিপাকে পড়েছেন নির্মাণ ব্যবসায়ীরাও।’’

কবে এমবিসি বৈঠক হবে? কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে ফোন করলে তাঁর ফোন বেজে গিয়েছে। এসএমএস বা ওয়টস্যাপেও উত্তর মেলেনি।

পুরসভা নিযুক্ত এলবিএস-রা জানাচ্ছেন, বিপজ্জনক পুরনো বাড়ি নতুন করে সংস্কারের অনুমোদনও দেয় এমবিসি। ওই সমস্ত বাড়িতে মূলত ভাড়াটেরা থাকেন। এমবিসি বৈঠক না হওয়ায় বিপজ্জনক বাড়ি সংস্কারের একাধিক ফাইলও আটকে রয়েছে। তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার পরে বহুতল নির্মাণে একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এলবিএস-রা জানাচ্ছেন, নয়া বিধিনিষেধের জেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন বৈধ নির্মাতারাও।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Kolkata Municpal Corporation KMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy