অনিয়মের অভিযোগে কলকাতার ন’টি-সহ মোট ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবন। তাতে সমস্যায় পড়েছেন গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন নার্সিংহোমে ভর্তি রোগীরা।
এই এলাকায় সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক আছে একমাত্র উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এখানে সংগৃহীত রক্তের সিংহভাগ লাগে নিজেদের প্রয়োজনে। মাসে গড়ে ১১০০ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে রক্ত দিতে হয়। অন্তর্বিভাগে বা অস্ত্রোপচারের কারণেও অনেক রক্ত লাগে। বাড়তি রক্ত অন্য হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের রোগীদের জন্য দেওয়া হয়। ফলে, অনেক ক্ষেত্রেই অন্যত্র ভর্তি রোগীর পরিজনেরা উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে রক্ত পান না। এই অবস্থায় তাঁদের ভরসা কলকাতার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সরবরাহে টান পড়েছে।
উলুবেড়িয়া-সহ গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন নার্সিংহোমে ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্তদের নিয়মিত রক্ত দেওয়া হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রক্ত জোগাড় করতে কালঘাম ছুটছে ওই সব হাসপাতালে ভর্তি রোগীর পরিবারের। রোগীর প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাঁচলার রেজাউল করিম। তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে রক্ত জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছি। উলুবেড়িয়া মেডিক্যালে অধিকাংশ সময়ে রক্ত মেলে না। কলকাতার সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে ৮-১০ ঘণ্টা লাইন দিয়ে রক্ত নিতে হচ্ছে।’’ উলুবেড়িয়ার ওটি রোডের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্ণধার দীপক দাস বলেন, ‘‘বড় বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ থাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। যেগুলি চালু আছে, সেখান থেকে এবং সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত আনতে হচ্ছে। এতে দেরি হচ্ছে।’’
সমস্যা সমাধানে সরকারি হাসপাতালগুলিকে রক্তদান শিবির আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। শনিবার বাগনান গ্রামীণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রক্তদান শিবির করেন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তথা চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের অভিমত, এ ভাবে সমস্যা মিটবে না। তাঁদের বক্তব্য, রক্ত নিয়ে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের অসাধু কাজকর্ম ধরতে গিয়ে রক্তদান শিবিরের উপরে বিরূপ প্রভাব যাতে না পড়ে, সেটাও দেখতে হবে। ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্ণধার, চিকিৎসক শুভাশিস মিত্র বলেন, ‘‘আমাদের ব্লাড ব্যাঙ্ক আছে। কিন্তু, রোগীর আত্মীয়েরা এখানে রক্ত দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তাই রক্তদান শিবির করতেই হবে। দুর্নীতি বিরোধী অভিযান করতে গিয়ে যদি রক্তদান শিবির নিয়ে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়, সেটা খারাপ হবে।’’