তারাতলায় গত ২৪ জুন নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে দু’জনকে গ্রেফতার করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠিত হয়। শুক্রবার রাতে সিট-এর তরফে ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুর শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার তাঁকে আলিপুরে মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারকের আদালতে পেশ তোলা হলে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত হয়।
এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিল্ডিং দফতরের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারেরা শনিবার দুপুর থেকে পুরসভার সদর দফতরে জড়ো হয়ে ডিজি (বিল্ডিং) উজ্জ্বল সরকারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে তাঁরা ঘরে ঢোকেন। তাঁদের দাবি, ‘‘আমিনুরকে ফাঁসানো হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তি চাই।’’ এ দিন বিক্ষোভ চলাকালীন ডিজি (বিল্ডিং) তাঁর ঘরে ছিলেন না।
দীর্ঘক্ষণ ডিজি-র অপেক্ষা করেও তাঁর দেখা না পাওয়ায় ইঞ্জিনিয়ারেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর পরেই ডিজি-র পদত্যাগ চেয়ে পোস্টার লিখে অফিসের দেওয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
পুর ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, ২৪ জুন তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনার সঙ্গে ধৃত ইঞ্জিনিয়ার কোনও ভাবেই যুক্ত নন। বিক্ষোভরত ইঞ্জিনিয়ারেরা জানিয়ে দিয়েছেন, ধৃত ইঞ্জিনিয়ারের জামিন না হওয়া পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্ম তাঁরা সোমবার থেকে বন্ধ রাখছেন। টানা কাজ বন্ধ করে প্রতিবাদ দেখানো হবে। দফায় দফায় অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। এ দিন বিকেলের দিকে বিক্ষোভরতদের আশ্বস্ত করতে ডেপুটি পদ মর্যাদার এক ইঞ্জিনিয়ার গিয়ে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে কলকাতা পুরসভার ডিজি (বিল্ডিং) উজ্জ্বল সরকারকে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি।