দু’বছরের পড়ুয়াকে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে আছড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনায় শিশুটির ডান পা ভেঙেছে বলেও অভিযোগ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শিশুটির মা। পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকাকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়। তাঁর নাম সানন্দা পাল। তবে আহত ছাত্রের মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে পুলিশ পেশ না করায় জামিন হয় শিক্ষিকার। ফলে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই।
অভিযোগ, শিশুটিকে মেঝেতে আছড়ে ফেলেন শিক্ষিকা। তাতে শিশুটির ডান পায়ে চোট লাগে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার পরে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৭(২) ধারায় ইচ্ছাকৃত ভাবে গুরুতর আঘাত করা এবং শিশু অধিকার আইনের ৭৫ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীরা শ্রেণিকক্ষের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত করছেন।
সূত্রের খবর, এ দিনই অভিযুক্তকে আলিপুর মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারকের আদালতে তোলা হয়। তবে ওই ছাত্রের কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট রবিবার আদালতে পেশ করতে পারেননি তদন্তকারী অফিসার। একটি এক্স-রে প্লেট আদালতে জমা দেওয়া হয়। মেডিক্যাল রিপোর্ট ছাড়া মামলার শুনানি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক।
সরকারি আইনজীবী মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা হওয়ার পরে শুনানির আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘‘সোমবার পুলিশ মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরে জামিনের আবেদনের শুনানি হোক। তাই অভিযুক্তের এক দিনের জেল হেফাজতের আবেদন করা হচ্ছে।’’ যদিও বিচারক রবিবারই অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেন।
আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের অভিযোগে মেডিক্যাল রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ, যা পুলিশ আদালতে জমা করতে পারেনি। পুলিশের তরফে চরম গাফিলতি বলে মত আইনজীবীদের।