Advertisement
E-Paper

নগ্ন করে হাঁটানোর পাল্টা? ধৃত তিন অভিযুক্তকে খালি গায়ে, খালি পায়ে ঘোরাল পুলিশ! উচিত কাজ কি না, উঠছে প্রশ্ন

মঙ্গলবার সকালে সরশুনা এলাকাতেই তিন অভিযুক্তকে খালি পায়ে, খালি গায়ে ঘোরায় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন পুলিশকর্মীরা। তিন জনেরই কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। পরনে ছিল হাফ প্যান্ট বা বারমুডা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪৯
সরশুনা কাণ্ডে খালি গায়ে এবং খালি পায়ে ঘোরানো হচ্ছে অভিযুক্তদের। মঙ্গলবার সকালে বেহালায়।

সরশুনা কাণ্ডে খালি গায়ে এবং খালি পায়ে ঘোরানো হচ্ছে অভিযুক্তদের। মঙ্গলবার সকালে বেহালায়। ছবি: সংগৃহীত

খাস কলকাতায় তিন জন পুরুষকে নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ উঠেছিল। বেহালার সরশুনার সেই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে খালি গায়ে এবং খালি পায়ে হাঁটাল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই অভিযুক্তদের ওই ভাবে হাঁটানো হচ্ছিল। যদিও পুলিশ এই কাজ করতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন এবং রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। নগ্ন করে হাঁটানোর ‘শাস্তি’ হিসেবেই অভিযুক্তদের অর্ধনগ্ন করে ঘোরানো হল কি না, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও।

১৩ বছরের কিশোরীকে চুম্বন করার অভিযোগে ১৯ বছরের তরুণ, তাঁর বাবা এবং আর এক বন্ধুকে ‘শাস্তি’ দিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। প্রকাশ্য রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় ওই তিন জনকে হাঁটতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। তরুণের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সরশুনা থানায় সোমবার মামলা হয়। গ্রেফতার করা হয় কিশোরীর বাবা প্রদীপ সরকার, মামা রাহুল বর্মন, মা রিঙ্কু সরকার, পড়শি শঙ্কর সাউকে। বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে সরশুনা এলাকাতেই তিন অভিযুক্তকে খালি পায়ে, খালি গায়ে ঘোরায় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন পুলিশকর্মীরা। তিন জনেরই কোমরে দড়ি বাঁধা ছিল। পরনে ছিল হাফ প্যান্ট বা বারমুডা। তাঁদের দেখতে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কিশোরীর বাবা, একজন মামা, অপরজন ধৃত প্রতিবেশী।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আহমেদ বলেন, “যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা লজ্জাজনক। দীর্ঘক্ষণ ধরে ওই তরুণ এবং তরুণের বাবার সঙ্গে এই ঘটনা ঘটল। অথচ পুলিশ পৌঁছোয়নি। সময় মতো পুলিশ পৌঁছোলে এই ঘটনাটা ঘটত না। পাল্টা পুলিশ কি করল? অভিযুক্তদের অর্ধনগ্ন করে প্যারেড করাল! এই ট্রেন্ড তো নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেখছি।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “পুলিশের কর্মবিধিতে এটা কোথায় আছে? ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে আছে? পুলিশের কাজ তো আইন রক্ষা করা, আইন মেনে কাজ করা। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া নয়। এটা পুলিশের কাজ হতে পারে না। ইতিহাস সাক্ষী এই ভাবে অপরাধ কমানো যায় না। আসলে পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। তারা সমস্ত আইন অমান্য করে রাজনৈতিক নির্দেশ পালন করছে।”

নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ, তার পর অভিযুক্তদের খালি গায়ে হাঁটানো— দু’টি ঘটনারই নিন্দা করেছেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এই ঘটনাগুলি ‘সভ্যতার কলঙ্ক’। শোভনদেব বলেন, “পুলিশ খালি গায়ে আর খালি পায়ে হাঁটালেই কি অপরাধের শাস্তি হয়ে যাবে?”

প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়। এর আগেও রাজ্যে একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে, খালি পায়ে এলাকায় ঘোরাচ্ছে পুলিশ। মূলত রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন মামলায় ধৃত তৃণমূল নেতাদের এই ভাবে ঘোরানো হয়েছিল। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশের তরফে বলা হয়, ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। জুন মাসে একটি জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে। কিন্তু তার পর ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর সম্মানহানি করতে পারে না। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ বলেছিল, “পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে। আইন মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে ফাঁসিতেও চড়াতে পারে। কিন্তু গ্রেফতারের নামে ইচ্ছাকৃত ভাবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি করতে পারে না।’’ রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্টও তলব করে আদালত।

Sarsuna Naked Kolkata Police

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy