E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শীর্ষ স্তরের কথাতেই কি ক্যাডার বদলে চিকিৎসককে নিয়োগ

সূত্রের খবর, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়া রোগী কেন বাড়ছে, সেই সম্পর্কিত তথ্যভান্ডার তৈরির জন্য ২০১৮ নাগাদ ‘আইওপি’-তে সাইকায়াট্রিক এপিডেমিয়োলজি বিভাগ খোলা হয়। কিন্তু সেখানে স্থায়ী কেউ ছিলেন না।

শান্তনু ঘোষ

শেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ ০৭:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

চাকরির ইন্টারভিউয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল ‘মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস’-এর অধীনে। যদিও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জেনারেল সার্ভিস’-এর। দু’বছর পরে সার্ভিস ক্যাডার বদলে ফের এডুকেশন সার্ভিসে আনা হয় ‘ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি’ (আইওপি)-র চিকিৎসক রিয়াল দাসকে। অভিযোগ, সেই ‘বদল’-এর নেপথ্যে তৃণমূল সরকারের মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছিল এবং প্রশাসনের শীর্ষ স্তরের ছাড়পত্র নিয়েই স্বাস্থ্য দফতর কাজটি করেছিল।

সূত্রের খবর, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়া রোগী কেন বাড়ছে, সেই সম্পর্কিত তথ্যভান্ডার তৈরির জন্য ২০১৮ নাগাদ ‘আইওপি’-তে সাইকায়াট্রিক এপিডেমিয়োলজি বিভাগ খোলা হয়। কিন্তু সেখানে স্থায়ী কেউ ছিলেন না। ২০২০-র অক্টোবরে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসের অধীনে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে এক জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই পদটি তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত ছিল। এপিডেমিয়োলজি বা হেল্‌থ সায়েন্স বা জনস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর অথবা বিদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেল্‌থ সায়েন্সে এমএস (মাস্টার অব সায়েন্স)-কে যোগ্যতার মাপকাঠি রাখা হয়। সূত্রের খবর, রিয়াল ওই বিদেশি ডিগ্রিধারী হিসাবে আবেদন করে চাকরি পান। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘ভারতে হেল্‌থ সায়েন্সে কোনও ডিগ্রি হয় না। আর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে চাকরি পেতে স্নাতকোত্তর স্তরের যে সব ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য, এটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়।’’

চিকিৎসক মহলের একাংশের অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণকারী উত্তরবঙ্গ গোষ্ঠীর অন্যতম বলে পরিচিত চিকিৎসক শ্যামাপ্রসাদ দাস সম্পর্কে রিয়ালের বাবা। তিনিই হয়তো বিশেষ ক্ষমতাবলে মেয়েকে এই সুযোগ পাইয়ে দিয়েছিলেন। যদিও শ্যামাপ্রসাদ বলেন, ‘‘মেয়ে নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। কেউ প্রমাণ করুক, আমি প্রভাব খাটিয়েছি। কারণ, আমি কখনওই প্রভাবশালী ছিলাম না।’’

২০২০-র ২৭ নভেম্বর রিয়ালকে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জেনারেল সার্ভিস’ ক্যাডারে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্বাস্থ্য দফতর। রিয়ালের কথায়, ‘‘এডুকেশন সার্ভিসে বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি পেয়েছি। নিয়োগের সময়ে ক্যাডার জেনারেল সার্ভিস করে দেওয়া হয়। সেটা জানালে স্বাস্থ্য দফতর ভুল সংশোধন করে ফের এডুকেশন সার্ভিস করে। এখানে আমার দোষ কোথায়?’’ যদিও ‘ভুল সংশোধন’-এর নেপথ্যে মন্ত্রিসভার অনুমোদন বা অন্য কিছু ছিল কিনা, তা জানেন না বলেই দাবি রিয়ালের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এক জন মানুষ সরকারি চাকরিতে ছিলেন না। অথচ তাঁর (শ্যামাপ্রসাদ) কথায় মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, এমনকি গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চলত।’’ শারদ্বত আরও বলেন, ‘‘অনেকেই তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু ওঁর এত ক্ষমতার উৎস কী?’’ যদিও শ্যামাপ্রসাদের দাবি, ‘‘সরকারের এ হেন মানসিকতায় বিদেশের জ্ঞান থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা বঞ্চিত হবে। বিদেশে পাশ করা ছেলেমেয়েরাও আসবেন না।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Doctors

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy