নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিংহের আপ্ত সহায়ক শেখর চৌধুরীকে (৩০) খুনের ঘটনায় সামনে এসেছে নেশার আসরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঘটনা। বাড়ির পাশেই মাদকের আসর নিয়ে তিতিবিরক্ত শেখর প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হন বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনায় ধৃত তিন জন সম্পর্কে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মাদক মামলায় ইতিপূর্বে তারা জেল খেটেছে। নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহও বলেন, ‘‘নেশার আসর বা মাদকের কারবার— কোনওটাই বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশকে বলেছি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে দোষীদের গ্রেফতার করতে।’’ সম্প্রতি অর্জুন শেখরের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেন। পাশাপাশি, শেখরের স্ত্রীকে পুরসভায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
নোয়াপাড়ার এই ঘটনা আঙুল তুলেছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের দিকে। সম্প্রতি ব্যারাকপুরের লাটবাগানে পুলিশ ট্রেনিং কলেজে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিতে এসে সুশাসনের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশকে অপরাধ দমনে হাত খুলে কাজের কথা বলেছিলেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। হালিশহর থানার লক-আপে এক অভিযুক্তের রহস্য-মৃত্যুর ঘটনাতেও পুলিশের দিকেই আঙুল উঠেছে। প্রাক্তন ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ছুটে আসতে হয়েছে। ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের শাস্তির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তা-ও অপরাধ কমেনি।
সম্প্রতি তারাপীঠ এবং কলকাতায় দু’টি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন প্রায় ৫০টি পানশালা ও রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালাতে গিয়ে মদ ছাড়াও বিভিন্ন মাদকের রমরমার বিষয়টি সামনে এসেছে। ব্যারাকপুরের একটি মদের দোকানের মালিক গৌতম সেন বলেন, ‘‘মদ্যপানে আসক্তি নাবালক ও নাবালিকাদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু অনলাইনেও মদ মেলে। নেশার নানা সামগ্রী পাওয়া যায় মদের দোকান বা পানশালাগুলির কাছাকাছি।’’
মোহনপুর থানার ঘিদহ এলাকার এক কিশোরী নেশাগ্রস্ত এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পাচার হয়ে গিয়েছিল অসমে। তাকে এক বার ফিরিয়ে আনার পরে কাউন্সেলিংও করানো হয়। যদিও কিশোরীকে আটকে রাখা যায়নি। ব্যারাকপুর কমিশনারেটে নেশা করে অপরাধ ঘটানোর অভিযোগও নেহাত কম নয়। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। গত বছরই কাঁচরাপাড়ার দেশরাজ সিংহ তার সহপাঠী ঈশিতা মল্লিককে খুন করেছিল। হালিশহরের এক পানশালায় বসে খুনের ছক কষেছিল সে। কিছু অপরাধী ধরা পড়ে। কিন্তু নেশার খপ্পর থেকে সংশোধন কতটা হয়, সেটাই প্রশ্ন।’’