প্রায় এক মাস ধরে স্টেশন চত্বর থেকে অফিস, কারশেড-সহ কলকাতা মেট্রোর নানা পরিকাঠামো পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে নাগাড়ে প্রচার চলেছিল। এর ভিত্তিতে নির্বাচিত কিছু স্টেশনে আধিকারিকদের মাধ্যমে যাত্রীদের মতামত নিতে শুরু করেছিলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। রেল মন্ত্রক পালিত ওই কর্মসূচির নাম ‘জন-সম্বাদ’ (জন সংবাদ)। আর বৃহস্পতিবার, ওই মতামত নেওয়ার দিনেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনের হতশ্রী অবস্থার ছবি।
যা দেখে সমাজমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, মেট্রোর পরিচ্ছন্নতার হাল নিয়ে ও যাত্রীদের একাংশের আচরণ নিয়েও। পুরো স্টেশন জুড়ে ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে প্লাস্টিক, চিপসের প্যাকেট, কাগজের টুকরো, জলের বোতল। তারই মধ্যে ক্লান্ত যাত্রীদের অনেকেই মেট্রো স্টেশনের মেঝেয় হাত-পা ছড়িয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
পুজোর পঞ্চমী থেকে দশমীর মধ্যে কলকাতা মেট্রো ৬১.৫ লক্ষ যাত্রী পরিবহণ করে নজির গড়েছে। ষষ্ঠীর দিন ১২ লক্ষের বেশি যাত্রী মেট্রোয় সফর করেছেন। যাত্রী পরিবহণের ক্ষেত্রে মেট্রো কর্তৃপক্ষ নজির গড়লেও পুজোর মেট্রোয় বহু স্টেশনেই দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের মতোই পড়ে থেকেছে কাগজ, জলের বোতল, চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের মোড়ক-সহ নানা উপকরণ। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর বহু স্টেশনেই শৌচাগারের অবস্থাও শোচনীয়। বি বা দী বাগ এবং বেলেঘাটা তার মধ্যে অন্যতম।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রেলের পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোতেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছিল। এক মাস ধরে মেট্রোর পরিসর পরিচ্ছন্ন রাখতে নানা অনুষ্ঠান পালন হয়েছে। কিন্তু, তার পরেও মেট্রো স্টেশনের এমন অবস্থা দেখে যাত্রীদের অনেকেই ক্ষোভ জাহির করেছেন। সমালোচিত হয়েছে যাত্রীদের একটি অংশের এমন দায়িত্বহীন আচরণ ও তার পাশাপাশি মেট্রো কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও। একাধিক মেট্রো স্টেশনে স্বয়ংক্রিয় গেট বিকল থাকার কথাও উঠে এসেছে।
কলকাতা মেট্রোয় বর্তমানে কর্মী সংখ্যার আকাল রয়েছে। বহু স্টেশনেই পর্যাপ্ত সাফাইকর্মী নেই বলে অভিযোগ। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় স্টেশন পরিচ্ছন্ন করার ভার বেসরকারি সংস্থার হাতে দিতে হয়েছে। পরিকাঠামোর এমন হাঁড়ির হাল সত্ত্বেও প্রচারের চাকচিক্য তুলে ধরার এত মরিয়া চেষ্টা কেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে উঠছে এই প্রশ্ন।
মেট্রো আধিকারিকদের যুক্তি, কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় সাফাই ব্যাহত হয়। তার মধ্যেও চেষ্টা করা হচ্ছে। কোথাও নোংরা জমে থাকার খবর এলে এ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।