E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মেলেনি সেনার অনুমতি, সংস্কার থমকে কার্জন পার্ক সংলগ্ন অংশে

পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর নির্মাণ সংস্থা ‘কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (কেএমআরসিএল)-এর আধিকারিকদের দাবি, পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর রানি রাসমণি রোড এবং কার্জন পার্ক সংলগ্ন এলাকা সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব পূর্ত দফতরের।

ফিরোজ ইসলাম 

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৮
রানি রাসমণির মূর্তি তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তার ধারে এখনও ফেরানো যায়নি।

রানি রাসমণির মূর্তি তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তার ধারে এখনও ফেরানো যায়নি। —প্রতীকী চিত্র।

পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর এসপ্লানেড স্টেশন তৈরি ছাড়াও আরও একাধিক কাজের জন্য কার্জন পার্ক এলাকার বিস্তীর্ণ অংশে খোঁড়াখুঁড়ির প্রয়োজন হয়েছিল। এর জন্য রানি রাসমণির মূর্তি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কাজের জেরে লাগোয়া পার্কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।মেট্রোর সেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে গত বছর হাওড়া ময়দান এবং সেক্টর-৫-এর মধ্যে পুরো পথেমেট্রো চলছে। কিন্তু, বছর ঘুরেগেলেও রানি রাসমণির মূর্তি তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তার ধারে এখনও ফেরানো যায়নি। লাগোয়া কার্জন পার্কের দশাও বেহাল। ভবঘুরে ও মাদকাসক্তদের আনাগোনায় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর পশ্চিম প্রান্তের প্রবেশপথ এড়িয়ে চলেন অনেকেই। আবর্জনা, ঝোপ-জঙ্গলের কারণে ওই প্রবেশপথের কাছে খোলা জমিতে পা রাখাই মুশকিল।

পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর নির্মাণ সংস্থা ‘কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড’ (কেএমআরসিএল)-এর আধিকারিকদের দাবি, পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর রানি রাসমণি রোড এবং কার্জন পার্ক সংলগ্ন এলাকা সাজিয়ে তোলার দায়িত্ব পূর্ত দফতরের। ওই এলাকা সাজিয়ে তোলার জন্য তাঁরা পূর্ত দফতরকে আগেই টাকা দিয়েছেন। পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, ওই অংশকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য নির্দিষ্ট সংস্থাকে বরাত দেওয়ারকাজ তারা আগেই সেরে ফেলেছে। কিন্তু সেখানে কাজ শুরু করার জন্য সেনার অনুমতি না মেলায় তাআটকে আছে। প্রায় এক বছর ধরে বিষয়টি অনুমতির জটে আটকে রয়েছে। সেনা সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অনুমতি কবে মিলবে, তা জানা নেই। ফলে, মূর্তি স্থাপন ছাড়াও কয়েকশো বর্গমিটারওই এলাকার সৌন্দর্যায়নের কাজও থমকে গিয়েছে।

জোকা-এসপ্লানেড মেট্রোর নতুন স্টেশন নির্মাণের জন্য ধর্মতলার এল-২০ বাস স্ট্যান্ড রানি রাসমণি রোডের পাশে সাময়িক ভাবে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগম ছাড়াও রাজ্য পরিবহণ নিগমের দূরপাল্লার বাসের জন্য ওই মেট্রোর নির্মাণ সংস্থা ‘রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড’ নতুন বাস স্ট্যান্ড তৈরি করে দিয়েছে। সেখানে আলোও বসানো হয়েছে। কিন্তু ওই বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন অংশের হাল ফেরানো যায়নি। ২০২০ সালে মেট্রোর কাজের জন্য ওই অংশ থেকে রানি রাসমণির মূর্তি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর কর্তাদের দাবি, ওই অংশ নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য পূর্ত দফতরকে তাঁরা প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েছেন। পূর্ত দফতর ওই কাজের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার বরাত দিয়েছে। যার মধ্যে পুরনো এলাকার শ্রী ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল থেকে ধর্মতলার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন অংশ ছাড়াও আশপাশের এলাকার অনেকটা ফোর্ট উইলিয়ামে থাকা সেনার পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের অধীনে। ফলে, ওই অংশে যে কোনও কাজের জন্য সেনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পূর্ত দফতর সূত্রের খবর, পরিকল্পনার কথা বিস্তারিত জানিয়ে সেনা কর্তৃপক্ষকে একাধিক চিঠি দেওয়া হলেও এখনও প্রয়োজনীয় অনুমতি মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে সেনা কর্তৃপক্ষ এখনও কিছুই জানাননি। ফলে, যাবতীয় প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কাজ শুরু করতে পারছে না পূর্ত দফতর। এ দিকে, অপেক্ষা বাড়তে থাকায় কাজের খরচও বাড়ছে।

ওই অংশে রানি রাসমণির মূর্তি পুনরায় স্থাপনের দাবিতে দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষও পূর্ত দফতরকে চিঠি দিয়েছেন। তবে, সেনার অনুমতি না মেলায় কাজ এগোয়নি। পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা সেনার অনুমতি জোগাড়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখছেন। কোথাও সমস্যা থাকলে তা মেটানোর ব্যবস্থা করা হবে। নিকাশি সংস্কার, উদ্যান নির্মাণ, পেভার ব্লক বসানো, আলো বসানো ছাড়াও একাধিক কাজ হওয়ার কথা ওই অংশে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Kolkata Metro

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy