মাসে আয় যত, ব্যয় তার থেকে বেশি। নেই কোনও স্থায়ী তহবিল। ১৫০ বছরের পুরনো বরাহনগর পুরসভার এ হেন ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ অবস্থা ঘোচাতে এ বার জোর দেওয়া হচ্ছে সেই সব বাড়ি থেকে জরিমানা আদায়ে, যেখানে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বাড়তি নির্মাণ (ডিভিয়েশন) করা হয়েছে। চিহ্নিত হচ্ছে সেই সব বাড়ি।
সূত্রের খবর, পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রতি মাসে পেনশন বাবদ এক কোটি ১০ লক্ষ, স্থায়ী কর্মীদের বেতন বাবদ ৩৫ লক্ষ, অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি বাবদ এক কোটি ১০ লক্ষ এবং গাড়ির তেল ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৫০ লক্ষ, অর্থাৎ, মোট তিন কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু রাজস্ব বাবদ আয় তার অনেকটাই কম। গত আর্থিক বছরে রাজস্ব আদায়ের হিসাব বলছে, প্রতি মাসে নির্মাণ খাতে আদায় হয়েছে এক থেকে দু’কোটির মধ্যে। তার বাইরে আর তেমন ভাবে কোনও আয় নেই। এর ফলে প্রতি মাসের খরচ চালাতে গিয়ে গ্র্যাচুইটি, ঠিকাদারদের পাওনা, কোঅপারেটিভের খরচ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি টাকা বকেয়া হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে পুর বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বিধায়কের। তখন রাজস্ব আদায় বাড়াতে নকশা-বহির্ভূত নির্মাণ চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এত দিন তা হয়নি কেন? উপ-পুরপ্রধান দিলীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘‘আমাদেরই কোথাও গাফিলতি ছিল। তবে, বিধায়কের তৎপরতায় পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়েছে।’’ পুরসভার অন্দরের খবর, কোনও বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী চার দিকে যতটা জায়গা ছাড়ার কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ছাড়া হয়নি। সে সব নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠিয়ে সংশোধিত নকশা জমা নিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
এর ফলে জুন মাসে চার কোটি ৮২ লক্ষ ৬৪ হাজার এবং জুলাইয়ের ২৮ তারিখ পর্যন্ত চার কোটি ১১ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা গিয়েছে। পুরসভা সূত্রের খবর, বিগত মাসগুলির তুলনায় যা দ্বিগুণেরও বেশি। বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ‘‘বেআইনি দেখেও কারা, কেন চুপ থেকেছেন, সেটা তাঁরাই বলতে পারবেন। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য, সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবার স্বার্থে পুরসভার রাজস্ব আদায় বাড়ানো।’’