গভীর রাতে বক্ষরোগ বিভাগের আশপাশে হাফ প্যান্ট ও গলায়-গায়ে গামছা দেওয়া একাধিক ব্যক্তি কে? তাদের চলাফেরার অস্পষ্ট ফুটেজ সিসি ক্যামেরায় খতিয়ে দেখছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট গভীর রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। কয়েক মাস আগে ওই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে সিট গঠন করে পুনরায় তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।
ওই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ ও সিবিআইয়ের তদন্তে একমাত্র অভিযুক্ত, সাজাপ্রাপ্ত কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। যদিও শীর্ষ আদালতের বিচারপতি ও নিম্ন আদালতের বিচারকও প্রশ্ন তুলেছিলেন, গভীর রাতে সঞ্জয় কী ভাবে হাসপাতালের অন্দরে পৌঁছেছিল? পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত।
সম্প্রতি সেই দিনের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ঘটনার রাতে বক্ষরোগ বিভাগের আশপাশে এবং করিডরে বারমুডা জাতীয় হাফ প্যান্ট পরা এবং গলায়-গায়ে গামছা দেওয়া কয়েক জনকে যাতায়াত করতে। কিন্তু সেই ফুটেজ অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং তাতে ধারাবাহিকতা নেই বলে দাবি। কয়েকটি জায়গায় দু’-এক বার ওই ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে।
ফুটেজের আবছায়া ব্যক্তিদের বিষয়ে ঘটনার রাতে বক্ষরোগ বিভাগে কর্তব্যরত নার্সিং স্টাফ এবং আশপাশের ওয়ার্ডের চিকিৎসক এবং চিকিৎসক-পড়ুয়াদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফুটেজে ওরা কারা, সেই শনাক্তকরণের পদ্ধতিও শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে হাই কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ‘‘ওই ধরনের একটি ফুটেজের পেনড্রাইভ সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি সিবিআই স্পষ্ট করছে না।’’ সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের বক্তব্য, নির্যাতিতার পরিবারের দেওয়া ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সেই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না।’’
তদন্তকারীদের মতে, নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার রাতে চার সহপাঠীর সঙ্গে সেমিনার হলে খাবার খেয়েছিলেন তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়া। ওই চার জনের লিখিত বয়ান এবং যে ডেলিভারি সংস্থার প্রতিনিধি খাবার দিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরও লিখিত বয়ান নথিবদ্ধ করা হয়েছে। তা রিপোর্ট আকারে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতিদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা সেই রিপোর্ট দেখেছেন।
এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের কথায়, তদন্তে
একাধিক অসঙ্গতি মিলেছে। ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক নাকি একাধিক ব্যক্তি জড়িত, সেই ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।