E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘দুর্গা এল, মাকে আনল না?’ বলে চলেছে ছোট্ট ছেলে

নেপালে গত ২৬ অগস্ট হড়পা বানে হারিয়ে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেরই আজও খোঁজ নেই। তারই মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠাও। ওই বিপর্যয়ে এখনও নিখোঁজ থাকা শর্মিষ্ঠা-সহ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

বিতান ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৬
শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।

শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। — নিজস্ব চিত্র।

ফ্রিজে রাখা চকলেটের বাক্সের গায়ে লাগানো হাতে লেখা নোট। তাতে একটি ‘স্মাইলি’ দিয়ে লেখা— ‘ডোন্ট ফিনিশ ইট বিফোর আই গেট ব্যাক।’ গত ১৫ অগস্ট জন্মদিন ছিল শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। জন্মদিনের রাত থেকেই ব্যাগ গোছানো শুরু হয়েছিল মানসরোবর যাত্রার। পুজোর আগেই ফিরে এসে কেনাকাটা এবং সপরিবার ফের বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। ছোট্ট ছেলেকে বলে গিয়েছিলেন যে, তিনি হিমালয়ে যাচ্ছেন, পুজোর আগে মা দুর্গাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরবেন। কাঁচরাপাড়ায় বাড়ির সামনে ঘটক রোড উদ্বোধিনী মন্দিরের দুর্গাপুজোর আয়োজনেও শর্মিষ্ঠার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য ছিল। কিন্তু পুজো এসে গেলেও শর্মিষ্ঠা ফেরেননি। তাঁর অপেক্ষায় সমাজমাধ্যমে অসংখ্য লেখা ও ছবি।

নেপালে গত ২৬ অগস্ট হড়পা বানে হারিয়ে যাওয়া পর্যটকদের অনেকেরই আজও খোঁজ নেই। তারই মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত রাজনীতিক মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠাও। ওই বিপর্যয়ে এখনও নিখোঁজ থাকা শর্মিষ্ঠা-সহ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেও হাল ছাড়েননি শর্মিষ্ঠার স্বামী, বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইতিমধ্যে সকলেরই দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন। শুধু শর্মিষ্ঠার খোঁজ পাননি।

১৬ বছরের মেয়ে, ১০ বছরের ছেলে আর বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে আজও অপেক্ষার প্রহর গুনছেন শুভ্রাংশু। বাড়ির দোরগোড়াতেই পুজো মণ্ডপ। সেখানে কখনও মৃদু আওয়াজে পুজোর গান বাজলেও অধিকাংশ সময়েই বন্ধ সাউন্ড বক্স। পুজোর আয়োজনেও এ বার বিস্তর কাটছাঁট। পাড়ার পুজো আছে, কিন্তু তাতে সেই উদ্দীপনা নেই। রায় বাড়িতেও পুজো এ বার শুধুই প্রতীক্ষার। এত প্রার্থনা, মিনতি— অলৌকিক কিছু যদি হয়! শুভ্রাংশু বলেন, ‘‘এক কিশোরী আর বৃদ্ধা অপেক্ষা করছে একই সঙ্গে মা আর মেয়ের জন্য। আজ উমা ঘরের দোরে। ছোট্ট ছেলেটা মণ্ডপে প্রতিমা আসার পর থেকেই বলে চলেছে, হিমালয় থেকে দুর্গা এল, মাকে আনল না? আমরা দিশাহারা, প্রিয়জনের থাকা আর না-থাকার অনিশ্চয়তায়।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Durga Puja Nepal Mukul Roy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy