হুবহু মেট্রোচালকের মতো পোশাক পরে, নকল চাবি দিয়ে রেকের পিছনের দিকের দরজা খুলে নন-কন্ডাক্টিং মোটরম্যানের কেবিনে উঠে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয়। সম্প্রতি বছর কুড়ির এক যুবক ওই কাণ্ড ঘটান বলে অভিযোগ। ফুলবাগান স্টেশনে গার্ড তথা নন-কন্ডাক্টিং মোটরম্যানের কেবিন থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পরে অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই যুবক এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন বলে সূত্রের খবর। অভিযুক্ত অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির বাসিন্দা এবং আইটিআইয়ের পড়ুয়া বলে পুলিশ সূত্রের খবর। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রেলের পরিসরে অবাঞ্ছিত প্রবেশ-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মেট্রো সূত্রের খবর, কলকাতা মেট্রোয় আলাদা করে গার্ড নেই। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো ছাড়া অন্যান্য শাখায়, যেখানে আট কোচের মেট্রোর রেক চলে, সেখানে মেট্রোর চালকরাই পর্যায়ক্রমে ট্রেন চালানোর এবং গার্ডের দায়িত্ব সামলানোর কাজ করেন। ওই সব শাখায় যাত্রীদের ওঠা-নামার দিকে লক্ষ্য রাখা ছাড়াও মূলত কামরার দরজা খোলা এবং বন্ধ করার কাজ দেখাশোনা করেন পিছনের কামরার চালক। তাঁকে নন-কন্ডাক্টিং মোটরম্যান বলা হয়।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর ছয় কোচের ট্রেনের সামনে দিকে চালক থাকলেও পিছন দিকে চালকের কামরা ফাঁকা থাকে। ওই কামরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর প্ল্যাটফর্মে স্ক্রিন ডোর এবং গেট থাকায় ট্রেন থেকে যাত্রীদের ওঠা-নামার সময়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। ওই মেট্রোয় চালকের ভূমিকা গৌণ রেখে কন্ট্রোল রুম থেকে চালানো যায়। কলকাতা মেট্রোয় চালকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম থাকায় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় পিছনের কামরায় কোনও চালক না রেখেই পরিষেবা চলছে।
মেট্রো সূত্রের খবর, ওই যুবক ঘটনার দিন চালকের পোশাক পরে যাত্রীদের কামরা দিয়ে মেট্রোয় ওঠেন বলে অভিযোগ। তার পর নকল চাবি দিয়ে মেট্রোর পিছনের দিকে চালকের কামরার দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে পড়েন। অভিযুক্ত ভিতরে ঢোকা মাত্রই সামনের দিকে চালকের দায়িত্বে থাকা মেট্রোকর্মী পিছনের কেবিনের দরজা খোলা হয়েছে বুঝতে পারেন। সল্টলেকে সেন্ট্রাল পার্কে মেট্রোর অপারেশনাল কন্ট্রোল রুমে বিষয়টি জানান তিনি। যেখানে ওই কেবিনে কেউ থাকার কথা নয়, সেখানে কে দরজা খুললেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। অভিযুক্ত মেট্রোচালকদের উর্দির রঙের পোশাক পরে থাকায় যাত্রীরাও শুরুতে অস্বাভাবিকতা টের পাননি। পরে ঘটনার গুরুত্ব এবং অস্বাভাবিকতা টের পেয়ে খোঁজ শুরু হলে ফুলবাগান স্টেশনে পিছনের কেবিন থেকে আটক করা হয় ওই যুবককে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অরিত্র ট্রেনচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। অনলাইন সাইট থেকে তিনি গার্ডের কেবিনের দরজা খোলার নকল চাবি কেনেন বলে পুলিশের অনুমান। ওই ঘটনায় নাশকতার কোনও প্রমাণ পাওয়া না গেলেও বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মেট্রোর অভ্যন্তরে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখ না খুললেও রেকের উপরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।