হাওড়ার শিবপুরের একটি স্কুলে শিশু শ্রেণির এক ছাত্রীর হাত জানলার গ্রিলের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে মারধরের ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল শিবপুর থানার পুলিশ। সেই মামলায় শিশুটিকে আটকে রেখে মারধর ও ভয় দেখানো-সহ একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকেও বৃহস্পতিবার ওই স্কুলে গিয়ে সেই ছাত্রী ও তার মাকে ডেকে বয়ান নেওয়া হয়েছে, যার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করেছেন শিক্ষা সংসদের আধিকারিকেরা। সংসদ থেকে জানা গিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পরে সেই তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজ্য শিক্ষা দফতরে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত শিক্ষা দফতরই নেবে।
গত সোমবার ঘটনাটি ঘটে শিবপুরের প্রসন্নকুমারী বালিকা শিক্ষালয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকালের বিভাগে। তার পরেই প্রধান শিক্ষিকা তানিয়া ঘোষের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে শিশুটির পরিবার। পরিজনদের দাবি, প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির পাঁচ বছরের ওই শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুটির পরিজনেরা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে গিয়েও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান।
ঘটনাটি বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে এলে হাওড়ার শিক্ষা দফতরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ দিন পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রীর মা, শাবানা সৈয়দের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই ধারায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছরের জেল ও প্রায় এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই সঙ্গে, প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬/২, ১১৫/২, ৩৫১/২ ধারাতেও মামলা করা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ থেকে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকদের একটি দল শিবপুরের ওই স্কুলে যায়। সেখানে পরিদর্শকেরা শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সোমবারের ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এমনকি, যে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাকে ও তার অভিভাবকদেরও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে শিশুটির বয়ানের ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে তার জবানবন্দিও নেওয়া হয়। কথা বলা হয় তার মায়ের সঙ্গেও।
এই প্রসঙ্গে হাওড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান তথা জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক দিলীপকুমার সাহা এ দিন বলেন, ‘‘আমি ওই শিশুটির অভিভাবকদেরপাশাপাশি স্কুলের শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাঁদের আমি বলেছি যে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে স্কুলে ভাল ব্যবহার করতে হবে। তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা তাকে কোনও ভাবে ভয় দেখানো যাবে না। ছাত্রীটি যাতে নিয়মিত স্কুলে আসে, সেই বিষয়টি শিক্ষিকাদের নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া, পরিদর্শকদের নিয়ে গঠিত তদন্তকারী দল যে রিপোর্ট দেবে, তা আমরা শিক্ষা দফতরে পাঠিয়ে দেব।’’ প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধেঅভিযোগ দায়ের হওয়া নিয়ে এ দিন স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনও রকম মন্তব্য করতে চাননি।