হাওড়া শহরের সবচেয়ে ঘন বসতিপূর্ণ মিশ্র এলাকা বাছাই করে কি জঙ্গিরা নিরাপদ ঘাঁটি তৈরির চেষ্টায় ছিল? টিকিয়াপাড়া ও পিলখানা— হাওড়া শহরের এই দুই জায়গা থেকে গত কয়েক দিনে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মণ্ডল ও তার এক শাগরেদকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করার পরে এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশ মহলেও।
যদিও সোমবার হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কিছু দিন আগে জঙ্গি কার্যকলাপের খবর আসার পরেই সতর্ক করা হয়েছিল উত্তর হাওড়ার বাসিন্দা তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে। মন্ত্রীও সে কথা স্বীকার করেছেন। শনিবার রাতে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের উল্টো দিকে একটি আবাসনের তেতলার ফ্ল্যাট থেকে আদিত্য সিংহ নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেফতার করার পরে মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় হাওড়া সিটি পুলিশ। সেই সঙ্গে, শহরের ঘন বসতিপূর্ণ মিশ্র এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে বলেও সিটি পুলিশ সূত্রের খবর।
এ দিন রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে থেকেই আবিদ ভাট নামে এক ব্যক্তি আমার বাড়ি, গাড়ি ও অফিসের ছবি পাঠিয়ে, বার বার ফোন করছিল। ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েও ভয় দেখাচ্ছিল। বলছিল, আমার উপরে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাঁচ কোটি টাকা না দিলে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিল। আমি তখনই বুঝেছিলাম, স্থানীয় কেউ আছে, যে আমার সমস্ত তথ্য ছবি ও ছবি ওদের সরবরাহ করছে।’’
মন্ত্রী জানান, প্রথমে তিনি বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। ভেবেছিলেন, তোলাবাজির জন্য কোনও দুষ্কৃতী ভয় দেখাচ্ছে। তবে ঘটনাটি তিনি হাওড়ার পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছিলেন। এর কিছু দিন পরেই তাঁকে হাওড়ার পুলিশ কমিশনার জানান, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, হাওড়ায় পাকিস্তানি জঙ্গিরা সক্রিয় আছে। মন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা হতে পারে।
গত সপ্তাহে বর্ধমানে হামিম ধরা পড়ার পরে জানা যায়, তার আসল ঘাঁটি ছিল মন্ত্রীর বাড়ি থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে পিলখানার আলম মিস্ত্রি লেনে। সেখানে সে বাবার সঙ্গে জামার ট্যাগ তৈরির কারখানা করেছিল। সেখান থেকেই উমেশের বাড়ি, গাড়ি ও অফিসের ছবি পাকিস্তানের দুষ্কৃতীদের কাছে পাঠানো হচ্ছিল। সেই কারখানার আড়ালে চলছিল মন্ত্রীর ছেলেকে ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অপহরণের ছক। যে কাজে সহযোগিতা করছিলেন টিকিয়াপাড়ার কাছে বেলিলিয়াস লেনের বাসিন্দা আদিত্য। শনিবার গভীর রাতে বেলিলিয়াস রোডের পাঁচতলা বাড়িটি ঘিরে ফেলে ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ।
এ দিন সকালে জঙ্গি সন্দেহে ধৃত যুবকের ফ্ল্যাটে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে হাওড়া থানার পুলিশও। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘এই ঘিঞ্জি এলাকায় কে, কার ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন নিষিদ্ধ অ্যাপ দিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তা বোঝা মুশকিল। তা সত্ত্বেও আমাদের নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। গোয়েন্দা দফতরকে সতর্ক করা হয়েছে।’’