E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ক্যাম্পাস ছাড়তে নারাজ ফিল্ম স্কুলের পড়ুয়ারা

শনিবার এসআরএফটিআইয়ের ওই ছাত্রছাত্রীদের তরফে কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস দেওয়ার তোড়জোড় চলছে বলে দাবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০২
এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদসভা।

এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদসভা। — সংগৃহীত।

রাতারাতি হস্টেল বন্ধ করে শিক্ষাপ্রাঙ্গণ থেকে পড়ুয়াদের বার করে অশান্তি এড়াতে চাইছেন এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এ ভাবে রাতারাতি দেশের দূর দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের ক‍্যাম্পাস-ছাড়া করা 'অগণতান্ত্রিক' বলে দাবি করে পাল্টা আন্দোলনের পথে অনড় শিক্ষার্থীদের একাংশ। তাঁদের কারও কারও বক্তব্য, “এত দিন ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে যাঁরা ততটা সক্রিয় ছিলেন না, সেই পড়ুয়ারাও এখন ঐক্যবদ্ধ। এ ভাবে আচমকা ছাত্রছাত্রীদের হস্টেল ছেড়ে ক‍্যাম্পাস থেকে বার হতে বলা অগণতান্ত্রিক। এমনটা এসআরএফটিআইয়ের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি। এটার বিরুদ্ধে সকলেই এককাট্টা।” দু’টি সিমেস্টারের জন্য বহিষ্কৃত ছ'জন শিক্ষার্থীর পাশে থাকার কথাও বলছেন ওই পড়ুয়ারা। উপাচার্যের ইস্তফার দাবিতে ধর্না চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা।

শনিবার এসআরএফটিআইয়ের ওই ছাত্রছাত্রীদের তরফে কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিস দেওয়ার তোড়জোড় চলছে বলে দাবি। হাই কোর্টেও মামলার পথে যেতে পারেন পড়ুয়ারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাতারাতি হস্টেল খালি করা ভিন্‌ রাজ্যের শিক্ষার্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু হস্টেলের মেসে রাঁধাবাড়া বন্ধ করে পড়ুয়াদের কার্যত ক‍্যাম্পাস ছাড়া করারই চেষ্টা চলছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ স্বল্প সময়ের পুজোর ছুটিতে শিক্ষাপ্রাঙ্গণে থেকে গিয়ে কলকাতার দুর্গাপুজো দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। হঠাৎ হস্টেল বন্ধের সিদ্ধান্তে তাঁরাও আতান্তরে পড়েছেন।

তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারও কারও পারিবারিক বা ব‍্যক্তিগত কারণে কয়েক দিনের জন‍্য বাড়ি ফেরারই কথা ছিল। তাঁদের যেতে হবে। যেমন ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট অসমের তিনসুকিয়ার বাসিন্দা ব্লসম হাজারিকাকেই জরুরি দরকারে কয়েক দিনের জন্য বাড়ি ফিরতে হবে। তবে বাকি অনেকেই ক্যাম্পাসে থাকারই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছাত্রছাত্রীদের বক্তব্য, কমিউনিটি কিচেন বা গণ হেঁশেল গড়ে তুলে নিজেরাই ক্যাম্পাসে রান্নার পাট সামলানোর কথা ভাবছেন তাঁরা।

তবে এসআরএফটিআইয়ের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার বক্তব্য, ‘‘শনিবার থেকে দিন দশেকের পুজোর ছুটি এমনিতেই নির্দিষ্ট ছিল। তা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এতে ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ অসুবিধার কথা নয়।’’ তাঁর দাবি, ‘‘১০-১৫ জন ছাত্রছাত্রীই যা গোলমাল পাকাচ্ছেন। বাকিরা ক্লাসে ফিরতে চান।’’ বহিষ্কৃত পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সন্তোষ আজমেরার বক্তব্য, ‘‘কেউ আইনি লড়াই লড়তে পারেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে ক্যাম্পাসে থাকা অনুচিত।’’ নভেম্বরের মাঝামাঝি স্বল্পমেয়াদি কিছু পঠনপাঠন কর্মসূচিতে পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকার দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের এসআরএফটিআইয়ে আসার কথা। সেটা মাথায় রেখেই কর্তৃপক্ষ পুজোর ছুটি বাড়িয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
SRFTI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy