দুর্গাপুজোর সময়ে যানজট এড়াতে অন্যান্য বার যেখানে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন রুটে পঞ্চমী বা ষষ্ঠীর দিন বিকেল ৪টে থেকে অটো চলাচল বন্ধ করা হয়, এ বার সেখানে দ্বিতীয়া এবং তৃতীয়া থেকেই ওই সমস্ত রুটে অটো বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে পুলিশ। বিকেল ৪টের বদলে এ বছর পুজোর দিনগুলিতে দুপুর ৩টে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অটোরিকশা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব ট্র্যাফিক গার্ড-সহ শহরের আরও বেশ কিছু ট্র্যাফিক গার্ড।
পুজোর সময়ে যাত্রীদের একটি বড় অংশ মেট্রোয় যাতায়াত করলেও মেট্রো স্টেশনে পৌঁছনোর জন্য তাঁদের নির্ভর করতে হয় মূলত অটোরিকশার উপরে। মেট্রো স্টেশন লাগোয়া বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও একাধিক অটো রুটের মাঝে বেশ কিছু বড় পুজো থাকায় সেখানে যাত্রীদের রাস্তা পারাপারে সমস্যা বেড়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যারিকেড বসানো হলেও ভিড় সামলাতে গিয়ে চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শহর ও শহরতলির কিছু রাস্তায় অটো বাদে অন্যান্য যান চলাচল করছে, কিছু ক্ষেত্রে আবার রাস্তার একাংশ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দু’টি ক্ষেত্রেই অটো বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ঘোরালো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অটো চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ আসায় বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ এবং পুজো দেখতে বেরোনো দর্শনার্থীদের রাস্তায় নেমে হাঁটতে হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের সার্বিক চলাফেরা মন্থর হয়ে পড়ায় পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকায় জট আরও বাড়ছে।
এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গড়িয়া, কসবা, টালিগঞ্জ, পাটুলি, ই এম বাইপাস, বাঘা যতীন, সিংহবাড়ি, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী, কুঁদঘাট, টালিগঞ্জ, বেহালা চৌরাস্তা, ঠাকুরপুকুর, ডায়মন্ড হারবার রোড, তারাতলা, খিদিরপুর, রামনগর-সহ একাধিক এলাকায়।
গড়িয়াহাট-গড়িয়া, টালিগঞ্জ-কবরডাঙা, গড়িয়া-বারুইপুর-সহ একাধিক রুটে অটোর ভাড়া বেড়েছে। পুজোকে কেন্দ্র ঘরে ঘুরপথে অটোয় সফর করতে গিয়ে যাত্রী-পিছু ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
যে সব রুটে অটো সম্পূর্ণ বন্ধ, সেখানে চালকেরাও বিপাকে পড়েছেন। পুজোর সময়ে বাড়তি যাত্রী বহন করে আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁদের। পুজোর এতটা আগে থেকে অটো বন্ধ করা নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন অটোচালকদের একাংশ।
বাইপাসের একটি রুটের অটোর মালিক, শাসকদল-ঘনিষ্ঠ গোপাল সুতার বললেন, ‘‘পুজোর সময়ে বেশি ক্ষণ ভাড়া খেটে কিছুটা বাড়তি আয়ের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন চালকেরা। রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা যতটা স্বাভাবিক ও মসৃণ রাখা যায়, সেই চেষ্টা করা জরুরি। আশা করা যায়, প্রশাসনও এ নিয়ে ভাববে।’’
অন্য দিকে, পুজোর শহরে সব রাস্তায় বেসরকারি বাসের সমান ভাবে না চলাও যাত্রীদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। ফলে, পুজোর শহরে মেট্রোয় কোনও মতে সফর করা গেলেও রাস্তায় বেরিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত।