তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি বিশেষ সভায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত ১৬ জন শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বিপর্যস্ত পরিবারগুলির স্থায়ী পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের আশ্বাসও মিলেছে সরকারের তরফ থেকে।
এ দিনের সভায় নিহত এক শ্রমিকের স্ত্রী শিউলি রজক সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর অসহায়তার কথা তুলে ধরেন। কন্যাসন্তান নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ক্ষতিপূরণের এই সীমিত টাকায় তাঁর সারাজীবন চলবে না। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁর জন্য যেন একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।’’ শিউলির এই আর্জিতে দ্রুত সাড়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শ্রম দফতরের অধীনে থাকা বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে কীভাবে এই পরিবারকে সাহায্য করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।’’ এই বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে এবং শ্রমসচিব রচনা ভগতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যৌথ ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠাবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী তাতে দ্রুত সম্মতি দেবেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
সভায় দুঃখপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় যদি আমরা সকলকে জীবিত ফেরাতে পারতাম, তাহলে সবচেয়ে বেশি ভাল লাগত। আমরা ১৬ জনকে বাঁচাতে পারিনি, এর জন্য আমাদের গভীর দুঃখ ও করুণা আছে। আমরা আগামী দিনে চেষ্টা করব যাতে এই ধরনের বিপজ্জনক ঘটনা আর না ঘটে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, যাঁরা এই ঘটনায় হতাহত হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই অর্থনৈতিক ভাবে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া মানুষ। স্রেফ রুটি-রুজির টানেই তাঁদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয়েছিল। তবে সব পরিস্থিতিতেই সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে বলে ভরসা দেন তিনি।
অন্য দিকে, কাঁকিনাড়ার বাসিন্দা আহত শ্রমিক আরমান খান তাঁর ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বলেন, ‘‘ঘটনার পর আমরা তিন ঘণ্টা চাপা পড়েছিলাম। হাসপাতালে ভর্তি করার পর মাত্র দু’-তিন দিনের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়, ফলে চিকিৎসা ঠিকমতো হয়নি। আমার হাত ভাঙা, অথচ ভাড়া বাড়িতে থাকি। রোজ আনি, রোজ খাই, এখন কী করব?’’ আরমানের এই সমস্যার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারে যদি কোনও দশম শ্রেণি পাশ সদস্য থাকেন, তবে কলকাতা পুলিশের তরফে তাঁদের সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের বন্দোবস্ত করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- বুধবার দুপুরে তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ গুদাম আচমকাই ভেঙে পড়ে। সেই গুদাম তৈরির কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক।
- দুর্ঘটনার কারণে ভেঙে পড়া গুদামের ধ্বংসস্তূপের তলায় আটকে পড়েন তাঁরা।
- তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
-
অনুমোদনে গাফিলতির কথাই উঠে আসছে তারাতলা বিপর্যয়ে, মেয়র ফিরহাদের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
-
তারাতলা-কাণ্ড: নির্মাণে ছাড়পত্র, বির্তকে ফিরহাদের সই, প্রশ্ন তুললেন দুই প্রাক্তন মেয়র
-
তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের নকশা পুলিশের হাতে! কোথায় ত্রুটি, খতিয়ে দেখবেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা
-
তিন ভাইয়ের মৃত্যু, সঙ্গে অর্থসঙ্কট! নিজে বাঁচলেও মুঙ্গের থেকে তারাতলায় কাজে আসা মানিকের চোখেমুখে হতাশা
-
ফিরহাদের গ্রেফতারি চেয়ে সুর চড়াচ্ছে কালীঘাট-তৃণমূল, বাম, কংগ্রেসও! ‘নিরাপত্তার’ প্রশ্নে কি বিপাকে ঋতব্রতের শিবির?