E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি হলে সব স্তরে পঠনপাঠনের ক্ষতির আশঙ্কা স্কুলগুলির

পড়ুয়াশূন্য স্কুল থেকে শিক্ষক বদলি হওয়ায় যে স্কুলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক একসঙ্গে চলে (ইন্টিগ্রেটেড স্কুল), সেখানে প্রাথমিকে পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ১০ অগস্ট ২০২৬ ০৮:০১

— প্রতীকী চিত্র।

অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি হয়ে গেলে পঠনপাঠনে ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষকেরা। এই নিয়ে তাঁরা বিকাশ ভবনে অভিযোগও করেছেন। এমনকি পড়ুয়াশূন্য স্কুল থেকে শিক্ষক বদলি হওয়ায় যে স্কুলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক একসঙ্গে চলে (ইন্টিগ্রেটেড স্কুল), সেখানে প্রাথমিকে পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। প্রধান শিক্ষকদের দাবি, কোনও অতিরিক্ত শিক্ষককে বদলি করার সময়ে শিক্ষা দফতরকে দেখতে হবে, তাতে পঠনপাঠনে ক্ষতি হবে কিনা।

যেমন, ইন্টিগ্রেটেড স্কুল হিসাবে কয়েক দশক ধরে চলছে বাঙুরের নারায়ণদাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুল। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের প্রাথমিক স্তরে আট জন শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছ’জন শিক্ষক পড়ুয়াশূন্য স্কুল থেকে ডেপুটেশনে এসেছিলেন। এখন যে হেতু পড়ুয়াশূন্য স্কুল থেকে শিক্ষকদের সরিয়ে অন্য স্কুলে পাঠানো হচ্ছে, তাই ওই ছ’জনকে বদলি করা হয়েছে। অথচ আমাদের প্রাথমিকে ৩০০ পড়ুয়া আছে। ওই শিক্ষকেরা পড়ুয়াশূন্য স্কুল থেকে আমাদের স্কুলে ডেপুটেশনে এসেছিলেন, তাই তাঁদের মূল স্কুল প্রথমটিই। আমাদের এখন প্রাথমিকে দু’জন শিক্ষক রয়েছেন। আমাদের প্রাথমিক স্কুল তো উঠে যাওয়ার পরিস্থিতি।’’

বাঙুর স্কুল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ‘‘কোনও ভাবে অতিথি শিক্ষকের ব্যবস্থা করে ক্লাস চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু সেটা কত দিন সম্ভব? সঞ্জয়ের দাবি, ‘‘২০১৪ সালে শিক্ষা দফতরের একটি বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল, ইন্টিগ্রেটেড স্কুলের প্রাথমিক স্তরে যদি শিক্ষকের অভাব হয়, তা হলে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ থেকে শিক্ষক দিতে হবে। সেই নিয়ম মেনে আমাদের প্রাথমিকের শিক্ষক দেওয়া হোক।’’

অন্য দিকে, মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি হলে অনেক স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনায়ও ক্ষতির আশঙ্কা আছে বলে মত শিক্ষক মহলের। শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এমনিতেই উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকের অভাব। অনেক স্কুলেই মাধ্যমিক স্তরের বা নরমাল সেকশনের শিক্ষকেরা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ান। ফলে মাধ্যমিক স্তরের অতিরিক্ত শিক্ষককে বদলি করলে, ক্ষতি হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পঠনপাঠনেও।

শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, এখনও পর্যন্ত স্কুলের মোট পড়ুয়ার সংখ্যা এবং ওই স্তরে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যার ভিত্তিতে ৩০:১ ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত ধরে অতিরিক্ত শিক্ষক নির্ধারণ হচ্ছে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, ‘‘উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে অতিরিক্ত শিক্ষক নির্ধারণে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের প্রয়োজনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হোক। প্রতিটি উচ্চ বিদ্যালয়ে সব আবশ্যিক বিষয়ের শিক্ষক নিশ্চিত করার পরেই অতিরিক্ত শিক্ষক নির্ধারিত হোক।’’

শিক্ষা দফতরের এক কর্তার অবশ্য আশ্বাস, ‘‘উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনার যেন ক্ষতি না হয়, সেই দিক বিবেচনা করেই মাধ্যমিক স্তর বা নরমাল সেকশনের অতিরিক্ত শিক্ষক বদলি হবেন।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Transfer order School Teachers

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy