বামদের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ঘোলা থানার ঊষুমপুর বটতলা এলাকা। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে সিপিএমের কার্যালয়ে যথেচ্ছ ভাঙচুর চালানো হয়। হামলা হয় আরএসপি-র কার্যালয়েও। অভিযোগের তির বিজেপি আশ্রিত সমাজবিরোধীদের দিকে। হামলার প্রতিবাদে রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বাম নেতৃত্ব। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব অভিযোগ মানেননি।
ঘটনা অবশ্য এখানেই শেষ হয়নি। কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। তাতে যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয়দের একাংশও। মিছিল চলাকালীন ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা প্রশ্ন তোলেন, কেন হামলার ঘটনায় তাঁদের নাম জড়ানো হচ্ছে? এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। দু’পক্ষেরই কয়েক জন জখম হন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘোলা থানা থেকে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাম নেতৃত্ব জানান, ঊষুমপুর বটতলায় গত পাঁচ দশক ধরে রয়েছে তাঁদের কার্যালয় ‘প্রমোদ দাশগুপ্ত স্মৃতি ভবন’। নেতৃত্বের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে এলাকা অন্ধকার করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায়। শেষে এলাকাবাসী ও দলীয় কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পালায় অভিযুক্তেরা। বাম সমর্থকদের একাংশ জানান, রাতেই তাঁরা থানায় যান। এ দিন বেলার দিকে এলাকায় বাম কর্মীরা যখন প্রতিবাদ মিছিল করছিলেন, সেই সময়ে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের গোলমাল বাধে।
যদিও সব অভিযোগ খারিজ করে বিজেপি নেতা জয় সাহা জানান, হয় বামেরা নিজেরাই ভাঙচুর করে নাটক করছে, নয়তো স্বঘোষিত বিজেপির লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জয় বলেন, ‘‘প্রকৃত বিজেপি এমন কাজ করতেই পারে না। এ সব বামেদের প্রচারের আলোয় আসার চেষ্টা। তবে বিষয়টি দলগত ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। আইনানুগ পদক্ষেপও করা প্রয়োজন।’’
বাম নেতা ঝন্টু মজুমদার, নীলমণি বিশ্বাসদের অবশ্য দাবি, এই ঘটনায় বিজেপি আশ্রিত সমাজবিরোধীরা জড়িত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীরা গ্রেফতার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।