Advertisement
E-Paper

‘বিয়ের ছবি দিলেই স্বামী-স্ত্রী প্রমাণিত হয় না’! দ্বিতীয় বিয়ের দায়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের কাজ ফেরাল কলকাতা হাই কোর্ট

মামলাটি শুনেছিল বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, এখানে অভিযোগকারী আর কেউ নন, অভিযুক্তের স্ত্রী। শুধু তাঁর বক্তব্যকেই সত্য বলে ধরে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে প্রমাণ করা যায় না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০২৬ ২০:৫৪
The Calcutta High Court

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শুধু বিয়ের ছবি দেখিয়েই প্রমাণ করা যায় না যে কোনও যুগল স্বামী-স্ত্রী। কেউ ‘বিবাহিত’ এমন ‘অভিযোগ’ প্রমাণ করতে গেলে সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। প্রমাণ হিসেবে সেখানে ছবি যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় বার বিয়ে করার অভিযোগে রেল পুলিশে কর্মরত এক যুবকের চাকরি যাওয়ার মামলায় এমনই মন্তব্য করল কলকাতা হাই কোর্ট।

মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশে ৫ বছর পর চাকরি ফেরত পাচ্ছেন রেলসুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-র এক কর্মী।

আদালত সূত্রে খবর, ২০২০ সালে এক রেলকর্মীর স্ত্রী রেলের কাছে অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বার বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত করে। ঘটনাক্রমে ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল ওই কর্মীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। তার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হয়। তদন্তকারী অফিসার অভিযোগের সত্যতা রয়েছে বলে জানান। চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় ওই রেলকর্মীকে। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন চাকরি হারানো ব্যক্তি।

মামলাকারীর অভিযোগ, শুধু অভিযোগ করলেই তো হয় না। তিনি যে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, তার প্রমাণ দিতে হয়। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ খতিয়ে না দেখেই তাঁকে চাকরি থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। অন্য দিকে, রেলের যুক্তি, অভিযুক্তের স্ত্রী তদন্তপ্রক্রিয়া চলাকালীন হাজির ছিলেন। তিনি স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা সমর্থন করেছেন। ‘মৌনীবাবা মঠ’-এর একটি রেজিস্টারে দ্বিতীয় বিয়ের নথিও রয়েছে। তার সমর্থনে বিয়ের একটি ছবিও তারা হাতে পায়। তাই তদন্তকারী অফিসার ওই সিদ্ধান্ত নেন।

মঙ্গলবার মামলাটি শুনেছিল বিচারপতি মধুরেশ প্রসাদ এবং বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের ডিভিশন বেঞ্চ। তাদের পর্যবেক্ষণ, এখানে অভিযোগকারী আর কেউ নন, অভিযুক্তের স্ত্রী। শুধু তাঁর বক্তব্যকেই সত্য বলে ধরে নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে প্রমাণ করা যায় না। বস্তুত, এটা প্রমাণ হিসাবে যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ দিতে ‘নির্ভরযোগ্য’ এবং ‘স্বাধীন প্রমাণ’ থাকা দরকার। প্রমাণ হিসাবে বিয়ের ছবিও এখানে যথেষ্ট নয়। প্রথমে স্পষ্ট হতে হবে যে কী ঘটছে, ছবিতে কারা রয়েছেন এবং আদৌ বিয়ে হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে সাক্ষী হিসাবে ফটোগ্রাফারকেও ডাকা হয়নি। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের আইনি প্রমাণ মিলছে না।

আদালত জানিয়েছে, আদালতের হাতে যে সমস্ত নথি দেওয়া হয়েছে, তাতে মঠে রেজিস্ট্রির একটি ফটোকপি রয়েছে। তাতে আবার বর-কনে কিংবা কোনও সাক্ষীর সই নেই। তাই সেটিকেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। তার পরেই ডিভিশন বেঞ্চ রেলের ওই পদক্ষেপ খারিজ করে দেয়। তারা জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ওই আরপিএফ কর্মীকে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। অনুপস্থিতির সময়ের জন্য ‘নোশনাল সার্ভিস বেনিফিট’ দিতে হবে। অর্থাৎ, চাকরি যাওয়ার পাঁচ বছর পর আবার চাকরি ফেরত পাচ্ছেন ওই রেলকর্মী।

Rail RPF Job Calcutta High Court

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy