কলকাতার দুর্গাপুজোয় এ বার চৈনিক ছোঁয়া! সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোয় তাণ্ডব করবেন মহাদেব। আর সেই তাণ্ডব তুলে ধরতে প্রযুক্তি আসছে চিন থেকে।
দক্ষিণ কলকাতার এই পুজো এ বার ফুটিয়ে তুলছে দক্ষযজ্ঞ। পুরাণ অনুযায়ী, রাজা প্রজাপতি দক্ষ তাঁর জামাতা শিবকে পছন্দ করতেন না। তাই দক্ষ তাঁর যজ্ঞানুষ্ঠানে মেয়ে সতী এবং জামাতা শিবকে নিমন্ত্রণ করেননি। তবু সতী পিতার যজ্ঞানুষ্ঠানে যান। কিন্তু সেখানে পতি শিবের নিন্দা সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞের অগ্নিতে আত্মাহুতি দেন দক্ষ-কন্যা। স্ত্রীর মৃত্যুর শোকে তাঁর দেহ কাঁধে নিয়ে শিব যে প্রলয়ঙ্করী নাচ শুরু করেন, সেটিই শিবের তাণ্ডব নামে পরিচিত। সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোয় দেখানো হবে এই গোটা বিষয়টি। দেখা যাবে দক্ষের শিরচ্ছেদও।
গোটা বিষয়টি দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে একটি বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে। সেই প্রযুক্তিকৌশলই চিন থেকে কিনে আনছেন পুজোর উদ্যেক্তারা। তাঁদের দাবি, কলকাতার পুজোয় এমন প্রযুক্তি এর আগে ব্যবহার করা হয়নি। পুজোর এক কর্মকর্তা সোমনাথ দাস বলেন, ‘‘আমাদের এ বারের মণ্ডপে দর্শকেরা দুর্গাকে হেঁটে-চলে বেড়াতে দেখবেন। তবে এটা কোনও অভিনয় বা রোবট নয়।’’
সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোর এ বার ৬৯ বছর। থিম ‘তাণ্ডব’। পুজো কমিটির সদস্য শুভজিৎ মান্না বলেন, ‘‘আমাদের এ বারের পুজোর বাজেট এক কোটি ১০ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে চিন থেকে এই প্রযুক্তি আনতেই খরচ হচ্ছে ৬৫-৭০ লক্ষ টাকা।’’ চিন থেকে জাহাজে করে আনা হচ্ছে এই প্রযুক্তি। ২ অক্টোবর তা শহরে চলে আসার কথা। শুভজিৎ আরও জানান, এই বিশেষ প্রযুক্তি সবচেয়ে ভাল তৈরি হয় ইতালিতে। কিন্তু তার জন্য খরচও অনেকটাই বেশি। চিনে তৈরি এই প্রযুক্তির খরচ বেশ কম হওয়ায় সেখান থেকেই আসছে সেটি।
পাঁচটি প্রযুক্তিকৌশল মিশিয়ে গোটা ‘দক্ষযজ্ঞ’ রূপ দেওয়া হচ্ছে। তার মধ্যে মূল প্রযুক্তিটি কেনা হচ্ছে চিন থেকে। পুজোর শিল্পী রিন্টু দাস বলেন, ‘‘দর্শকেরা প্রথমে একচালার দুর্গাকে সপরিবারে দেখতে পাবেন। হঠাৎ দেখা যাবে, দুর্গা চোখ খোলা-বন্ধ করলেন। দু’দিকে ঘাড় ঘোরালেন। পায়ের উপরে তুলে রাখা পা নামালেন ও উঠে দাঁড়ালেন। এর পরে দুর্গা ধীরে ধীরে সতীর রূপ ধারণ করবেন। তার পরে সতী দু’হাত জোড় করে সামনের দিকে কয়েক পা এগিয়ে এসে যজ্ঞের আগুনে নিজেকে আহুতি দিলেন। এর পরে যজ্ঞের আগুন নিভে গিয়ে ধোঁয়া তৈরি হবে। সেই ধোঁয়া থেকে ফের দুর্গার রূপ দেখা যাবে।’’ গত বছর গুজরাতের আমদাবাদে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন রিন্টু। সেটাই এ বার সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোয় ব্যবহার করছেন তিনি। মণ্ডপে শিবের তাণ্ডব দেখানোর জন্য বানানো হচ্ছে ১২ ফুট লম্বা দু’টি পা।
সব মিলিয়ে সোমনাথ আত্মবিশ্বাসী, ‘‘আমাদের এই পুজোয় এ বার এমন কিছু হতে চলেছে, যা কলকাতা আগে দেখেনি। এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়, সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজো ভাইরাল হতে চলেছে।’’