মাত্র দু’টি শিফটে কাজের ব্যবস্থা নিয়ে সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা কী ভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে আগেই উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। কাকভোরে বেরিয়ে সকালে কাজে যোগ দেওয়া কিংবা রাত সাড়ে ১১টায় পরিষেবা মিটিয়ে কর্মীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে সমস্যার জেরে মেট্রোর একাধিক কর্মী সংগঠন ওই ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। সব দিক বিবেচনা করে আজ, সোমবার থেকে কলকাতা মেট্রোর উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম শাখায় দুই শিফটের জায়গায় কর্মীদের তিনটি শিফটে কাজের ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, রাতে বুকিং কাউন্টার খোলা রাখার সময়ও খানিকটা বাড়ছে। রাত ৯টা ২৫ মিনিটের পরিবর্তে ৯টা ৫০ পর্যন্ত বুকিং কাউন্টার খোলা থাকবে বলে মেট্রো সূত্রের খবর। তবে, রাত ১০টার পরে স্টেশনের সব প্রবেশপথ খোলা থাকবে না। কোন কোন প্রবেশপথ ১০টার পরে খোলা থাকবে, তা পরে জানানো হবে। যে সব স্টেশনে প্যানেল নেই, সেখানে মূলত এক জন শিফট ইন-চার্জ এবং এক জন কমার্শিয়াল পোর্টার রাতের শিফটে দায়িত্ব সামলাবেন।
সকালে কোনও মেট্রোকর্মীর স্টেশনে পৌঁছতে দেরি হলে রাতের শিফট ইন-চার্জকেই পরিস্থিতি সামলাতে হবে। যে সব স্টেশনে প্যানেল আছে, যেমন, ময়দান, গিরিশ পার্ক, দমদম, টালিগঞ্জ— সেখানে এক জন করে প্যানেল অপারেটর এবং এক জন পয়েন্টসম্যান রাতের শিফটে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকবেন।
রাতে মেট্রো স্টেশনে কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করতে পর্যাপ্ত আলো এবং বাতানুকূল ব্যবস্থা চালু রাখা হবে। মোতায়েন রাখা হবে নিরাপত্তারক্ষীও। নতুন ব্যবস্থায় ভোর ৫টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিফটের পরিবর্তে মেট্রোকর্মীদের সকালের শিফট শুরু হবে ৬টায়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টো, দুপুর ২টো থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিফট চালু থাকবে। রাতের শিফটে কর্মীদের স্টেশনে রাখার ব্যবস্থা হওয়ায় সকালের পরিষেবা ঠিক মতো শুরু হওয়া নিয়ে আশঙ্কা কমবে। মেট্রোর কর্মী সংগঠনগুলি নতুন ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে, পরিষেবা উন্নত করার স্বার্থে ট্র্যাফিক বিভাগে ভয়াবহ কর্মী-সঙ্কটের দিকটিও উঠে এসেছে।
‘মেট্রো রেলওয়ে মেন’স ইউনিয়ন’-এর সাধারণ সম্পাদক সুজিত ঘোষ বলেন, ‘‘তিন শিফট চালু করার যৌক্তিকতা কর্তৃপক্ষ উপলব্ধি করে যে চালু করছেন, তাতে আমরা খুশি। তবে, আরও কর্মী প্রয়োজন।’’
কলকাতা মেট্রোর ‘প্রগতিশীল কর্মচারী ইউনিয়ন’-এর সহ-সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘পরিবর্তিত সময়ের চাহিদা মেনে মেট্রোয় পরিষেবার সময় বাড়ানোর দাবি উঠবে, এটাই বাস্তব। যে সূচি চালু হয়েছে, ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারণের দাবি উঠতে পারে। যাত্রীদের স্বার্থে পরিষেবার সম্প্রসারণ সব সময়ে স্বাগত। কিন্তু, তার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কর্মীবান্ধব অন্যান্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণে মেট্রো কর্তৃপক্ষ কতটা যত্নবান হন, সেটা দেখাও জরুরি।’’ ভয়াবহ সংখ্যক কম কর্মী নিয়ে জোড়াতাপ্পি দিয়ে পরিষেবা দেওয়ার পরিবর্তে ট্র্যাফিক বিভাগে আরও কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন শুভাশিসও।
অর্থনীতির বিকাশের স্বার্থে রাজ্য সরকার বেশি রাত পর্যন্ত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার পক্ষপাতী। সরকারের মনোভাব বুঝেই মেট্রো প্রশাসন রাতে পরিষেবার সময় বাড়িয়েছেন। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে সকালেও পরিষেবার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে।
যাত্রীদের স্বার্থে অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের দাবিও উঠেছে। যার মধ্যে আছে বাস এবং লোকাল ট্রেনও। যাত্রীদের মতে, তা না করা গেলে রাতে এবং সকালের পরিষেবা মুষ্টিমেয় অংশেই সীমাবদ্ধ থাকবে।