পুজোর সময়ে স্টেশনের দেওয়ালে লাগানো কিউআর কোড স্ক্যান করে টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু করলেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। পুজো উপলক্ষে ভিড় বাড়ছে মেট্রোয়। এ দিকে, পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে বুকিং কাউন্টার খোলা নিয়েও চাপ বাড়ছে। মেট্রোয় দৈনিক যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি এখন স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করেন বা ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কেটে যাতায়াত করেন। কিন্তু পুজোর দিনে যে বিপুল সংখ্যক অনিয়মিত যাত্রীর চাপ আসবে, মূলত তাঁদের সামলাতে এই ব্যবস্থা চালু হল।
যে সব স্টেশনে ভিড় হতে পারে, সেখানে টিকিট কাটার এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। যার ফলে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে যাত্রীদের স্টেশনের বিভিন্ন দেওয়ালে সাঁটা কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। সেখান থেকে সরাসরি পাওয়া লিঙ্ক ব্যবহার করে টিকিট কাটার সুযোগ মিলবে। যাত্রী নির্দিষ্ট তথ্য এবং ফোন নম্বর দিয়ে টিকিটের মূল্য মেটালেই টিকিট ডাউনলোড করতে পারবেন। ওই টিকিট স্ক্যান করলে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের দরজা খুলে যাবে। বুধবার পার্ক স্ট্রিট স্টেশন থেকে এই ব্যবস্থার সূচনা করেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্ত।
এ ছাড়াও উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর এসপ্লানেড, দমদম, দক্ষিণেশ্বর, রবীন্দ্র সরোবর, মহানায়ক উত্তমকুমার, কালীঘাট, শোভাবাজার সুতানুটি, পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোর হাওড়া, শিয়ালদহ, সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রোর দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ওই সুবিধা মিলবে। এই ব্যবস্থা ছাড়াও একটি বেসরকারি সংস্থার ইউপিআই অ্যাপ (পেটিএম) থেকে সরাসরি টিকিট কাটার ব্যবস্থাও এ দিন চালু হয়েছে। ওই অ্যাপ থেকে টিকিট অপশনে গিয়ে বিভিন্ন ধাপ নির্বাচন করলে কলকাতা মেট্রোর টিকিট কাটা যাবে।
ইতিমধ্যেই মেট্রোয় যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে। কলকাতা মেট্রোর সব ক’টি শাখা মিলে শুধু সোমবারেই সাড়ে ১০ লক্ষ যাত্রী সফর করেছেন বলে খবর। এক দিনে মেট্রো কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোয় এক দিনে ৩ লক্ষ ১৩ হাজার যাত্রী সফর করেছেন বলে মেট্রো সূত্রের খবর। জোকা-মাঝেরহাট মেট্রোয় এক দিনে ১৩ হাজার এবং নোয়াপাড়া-বিমানবন্দর মেট্রোয় এক দিনে ১০ হাজার যাত্রী সফর করেছেন।
আজ, বৃহস্পতিবার পঞ্চমী এবং কাল, শুক্রবার ষষ্ঠীতে সর্বাধিক সংখ্যায় ট্রেন চালানো হবে। উত্তর-দক্ষিণ এবং পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোয় সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পরিষেবা মিলবে। পুজোর বাজারের ভিড় ছাড়াও অফিসের ভিড়ের কথা ভেবে অতিরিক্ত সময়ের ওই পরিষেবা চালু থাকবে। এই দু’দিন যাত্রী সংখ্যা সোমবারের ভিড়কে ছাপিয়ে যেতে পারে বলে অনুমান আধিকারিকদের।