দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সহপাঠীর আক্রমণে জখম নবম শ্রেণির পড়ুয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার। বৃহস্পতিবার ওই পড়ুয়ার বাবা বলেন, ‘‘ছেলে এখনও আইসিইউ-তে রয়েছে। তবে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ছেলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। আগের থেকে উন্নতি হয়েছে।’’
তিনি এ দিন আরও বলেন, ‘‘আমি কখনওই ওই ছাত্রের শাস্তি চাই না। তবে চাই, ও যেন নিজের ভুলটা বুঝতে পারে। এটা একটা সামাজিক অবক্ষয়। বাচ্চাদের মধ্যে মারামারি হতেই পারে। কিন্তু সেটা এমন পর্যায়ে যেন কখনও না যায়। আজকে সমাজে পরিবারের আয়তন ছোট হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে যেমন সদস্য সংখ্যা কম, একই ভাবে পাড়ায় বাচ্চাদের খেলার সঙ্গী, বন্ধুবান্ধবও কমে গিয়েছে। কেউ কিছু ভুল করলে, তার সংশোধন কে করবে?’’
যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন জখম ছাত্রের মা। বুধবার রাতের দিকে ওই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পড়ুয়া নাবালক হওয়ায় পুরো বিষয়টি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে জানানো হবে। সেখানে বিচারক যেমন নির্দেশ দেবেন, সেটাই মেনে চলা হবে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনার সময়ে ক্লাসে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন তদন্তকারীরা।
এ দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা জখম ছাত্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পুলিশ জানিয়েছিল, অভিযুক্ত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোর। এ দিন স্কুলের প্রিন্সিপাল বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে সব ছাত্র সমান। কাউন্সেলিংয়ের জন্য স্কুলে দু’জন সব সময়ে থাকেন। এক জন স্পেশাল এডুকেটরও আছেন। কোনও পড়ুয়ার কাউন্সেলিং করানোর দরকার হলে তাঁদের সাহায্য নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ওই কিশোর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিল কিনা, তা নিশ্চিত বলতে পারব না। তবে এই ঘটনার পরে ছাত্রটির বাবাকে ডেকে বলা হয়েছে, ওর ভাল করে কাউন্সেলিং করানোর জন্য। কারণ এই আচরণ স্বাভাবিক নয়।’’
কাউন্সেলিংয়ের বিষয়ে প্রিন্সিপাল জানান, শিক্ষকেরাই পড়ুয়াদের পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন মনে করলে তার ব্যবস্থা হয়। এ ছাড়া কোনও অভিভাবক কাউন্সেলিংয়ের অনুরোধ করলে সেটা করা হয়।