অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসে ঢুকতেই যে নিরাপত্তা-কক্ষ, সেখানে গেরুয়া রঙের প্রলেপ দেওয়া এবং সামনে ‘ভারতমাতা’র প্রতিকৃতি রাখার ঘটনার প্রতিবাদ করে ও ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে এ বার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জানালেন নাট্যব্যক্তিত্বেরা। এই ধরনের ‘দখলদারি’ চলতে থাকলে তাঁদের উপরেও ডিম-হামলা হতে পারে বলে সরব হয়েছেন স্বয়ং শমীকও!
নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী, অরুণ মুখোপাধ্যায়, অশোক মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, অসিত বসু, বিমল চক্রবর্তী-সহ বেশ কয়েক জন ওই চিঠি লিখেছেন। অ্যাকাডেমির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁরা চিঠিতে বলেছেন, ‘অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের উপরে অ-শৈল্পিক, বিকৃত আক্রমণ ঘটেছে। বিক্ষিপ্ত গেরুয়া রং করা, কোনও কার্যকারী সিদ্ধান্ত ছাড়াই কয়েকটি ঘর ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। যাঁরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের বিজেপির সদস্য, কর্মী হিসাবে পরিচয় দিচ্ছেন।’ বিষয়টি নিয়ে শমীকের সঙ্গে আলোচনার সময়ও চেয়েছেন নাট্যব্যক্তিত্বেরা।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক অবশ্য বলেছেন, “ওঁদের চিঠি দেখেছি। শিল্প-সংস্কৃতি জগতে দখলদারির পক্ষে বিজেপি নয়। কেউ কেউ একটু অতি-বিজেপি হয়েছে! দল তাদের নিয়ন্ত্রণ করবে।” তাঁর সংযোজন, ‘‘যিনি যেটা পারেন না, তিনি সেটা করবেন না। আগে অতীতের সরকার কিছু পক্ষপাতিত্ব করেছে। কিন্তু এই সবের পরিবর্তনের জন্যই বিজেপি এসেছে। সেই কাজ আমাদের দলও শুরু করলে ডিম আমাদের মাথায় পড়বে! আমার বয়স হয়েছে, চুল পাতলা, ডিম খেতে আমি রাজি নই! তাই এই কাজ করতে দেব না!’’
এই পরিপ্রেক্ষিতে শমীক যে নাটকের নিয়মিত দর্শক, সেই প্রসঙ্গ তুলে নাট্যব্যক্তিত্ব চন্দন সেন বলেছেন, “বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক সংস্কৃতি-মনস্ক, নাট্যপ্রেমী। নিজে অ্যাকাডেমিতে নাটক দেখতে আসেন। তাঁদের দল ক্ষমতায় আসার পরে অ্যাকাডেমির রং বদল এবং আরও কিছু কাণ্ড ঘটছে, যাতে আমরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তাই তাঁকেই বিষয়টি দেখতে আর্জি জানিয়েছি।”