E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও শংসাপত্রহীন স্কুল চিহ্নিত করার নির্দেশ

কোনও স্কুল চালাতে গেলে প্রথমে রাজ্য সরকারের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ এবং পরে রাজ্য সরকারের বোর্ড, সিবিএসই অথবা সিআইএসসিই বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ১৫ অগস্ট ২০২৬ ০৪:৫৮

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পরিকাঠামোহীন বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলি যাতে যেখানে-সেখানে গজিয়ে না ওঠে, তার জন্য আগেই সতর্ক করেছিল শিক্ষা দফতর। জানানো হয়েছিল, প্রতিটি বেসরকারি প্রাথমিক স্কুলকে সরকারের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি নিতে হবে। এখন একই নিয়ম মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানাল শিক্ষা দফতর। বিভিন্ন জেলার জেলা স্কুল পরিদর্শকদের চিঠি দিয়ে দফতর জানিয়েছে যে, তাঁদের জেলায় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ ছাড়া মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের যে সব বেসরকারি স্কুল চলছে, সেগুলি চিহ্নিত করতে হবে। যাদের এই শংসাপত্র নেই, তাদের এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কেন তাদের এই শংসাপত্র নেই, তার কারণ দর্শিয়ে সাত দিনের মধ্যে শিক্ষা দফতরকে জানাতেও বলা হয়েছে।

কোনও স্কুল চালাতে গেলে প্রথমে রাজ্য সরকারের থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ এবং পরে রাজ্য সরকারের বোর্ড, সিবিএসই অথবা সিআইএসসিই বোর্ডের অনুমোদন নিতে হয়। শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানাচ্ছেন, স্কুলের অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ভাবে তিনটি জিনিস দেখা হয়— স্কুলের জমি, স্কুলটির অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন এবং স্কুলের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রশিক্ষিত কিনা। কলকাতা বা কোনও মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে সিবিএসই অনুমোদিত স্কুল খুলতে গেলে এক একর জমি দরকার, গ্রামাঞ্চলে দরকার দুই একর জমির। সিআইএসসিই বোর্ড অনুমোদিত স্কুল খুলতে গেলে গ্রামাঞ্চলে এক একর এবং শহরাঞ্চলে ৩০ কাঠা জমির প্রয়োজন। না হলে অনুমোদন মেলে না। রাজ্য বোর্ডের স্কুলগুলির ক্ষেত্রে অবশ্য জমির কোনও নির্দিষ্ট মাপ নেই।

শিক্ষা দফতরের কর্তাদের মতে, কলকাতা শহরে তো বটেই, এমনকি, শহরতলিতেও এখন প্রচুর মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি হচ্ছে। সেগুলির ক্ষেত্রে যেমন জমির মাপ মানা হয় না, তেমনই মানা হয় না অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা বা প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও। ছোট ছোট ঘরের স্কুলগুলিতে অগ্নি-নির্বাপণের সরঞ্জামও থাকে না বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। ফলে, আগুন লেগে গেলে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। এনওসি না থাকলে যদি জরিমানা ধার্য করা হয়, তা হলে ওই সব স্কুলের কর্তৃপক্ষেরা অনেক সতর্ক হবেন বলে আশা শিক্ষা দফতরের।

তবে কয়েকটি বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’-এর জন্য সরকারের উচিত কিছুটা সময় দেওয়া। কারণ, গ্রামাঞ্চলে বা শহরতলির দিকে অনেক বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল তৈরি হয়েছে। চাহিদা বেড়েছে এই ধরনের স্কুলের। স্কুলগুলিতে পড়ুয়াও প্রচুর। এখন নজরদারি করে স্কুলগুলি হঠাৎ বন্ধ করে দিলে অথবা অতিরিক্ত জরিমানার বোঝা চাপালে আখেরে ক্ষতি হবে পড়ুয়াদেরই। এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘ঠিকঠাক পরিকাঠামো অবশ্যই থাকা দরকার। তবে ছোট ছোট বেসরকারি স্কুলগুলি কিন্তু সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত বাড়ির পড়ুয়াদের ইংরেজি শিক্ষার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই সব স্কুলে ফি কম থাকায় অনেক সাধারণ পড়ুয়ারা সহজে সেখানে ভর্তি হতে পারে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Education Department Schools West Bengal School

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy