রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল সরকার দাবি করেছিল, কলকাতা লন্ডন হবে। এ বার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে লন্ডনের সঙ্গে ব্যাঙ্কক এবং মুম্বই শহরের মেরিন ড্রাইভের নামও যুক্ত করল উন্নয়নের পরিকল্পনায়। নতুন সরকারের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর কলকাতার সৌন্দর্যায়নের জন্য ডায়মন্ড হারবার থেকে এসপ্লানেড পর্যন্ত হুগলি নদীর তীরবর্তী অংশের সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে বলে মঙ্গলবার জানালেন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতাকে লন্ডন বানানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, ‘‘একটি শহরকে বদলে অন্য একটি শহর করে ফেলা যায় না। যেখানকার যা যা ভাল, আমরা সেগুলিই বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করছি।’’
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এ দিন জানান, হুগলি নদীর তীরে সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি নদীর নীচ দিয়ে মেট্রোপথ এবং নদীর উপর দিয়ে একটি হাইওয়ে সেতু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সেই সঙ্গে নদীর তীরে ওয়াক ওয়ে এবং সাইকেল বে তৈরির ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে।
পুরমন্ত্রী এ দিন জানান, কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া এবং ট্যাংরার চায়না টাউনকে নতুন রূপে তৈরি করা হবে। এ ছাড়া, বিধাননগরে সরকারি আধিকারিকদের আবাসনগুলির সংস্কার করা হবে। কলকাতা, বিধাননগর ও হাওড়ায় হকারদের বাজারকে ব্যাঙ্ককের মতো করে সাজিয়ে তোলা হবে বলেও জানান অগ্নিমিত্রা। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, লন্ডনের টেমস নদীর ধারে কী ভাবে হকারেরা ব্যবসা করেন।
কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, চন্দননগর এবং নবদ্বীপ পুরসভা ছাড়াও একাধিক পুর সংস্থা, সুডা, কেএমডিএ-র অধীনস্থ ন’টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য ‘ন্যাশনাল বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (এনবিসিসি)-এর সঙ্গে এ দিন ‘মউ’ (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ওই সব প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গণ শৌচাগার ও হকার সমস্যাকে।
কলকাতা ও হাওড়া শহরের মাঝ বরাবর বয়ে যাওয়া গঙ্গা নদীর দু’পারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘আমরা আমাদের নদীর সামনের দিকের অংশ মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের আদলে তৈরি করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য হল, এখানে একেবারে আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা।’’ এ দিন থেকেই নির্ধারিত প্রকল্পগুলির কাজ এক প্রকার শুরু করে দেওয়া হল বলে জানালেন পুর সচিব খলিল আহমেদ।