রাজ্যে পালাবদলের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই ছাত্র-সংগঠনগুলির স্তরে ‘ঐক্যে’র বার্তা দিচ্ছে সিপিএম, সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন-সহ বিভিন্ন বামপন্থী দল। এ বার স্বাধীনতা দিবসের দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে দলীয় স্তরেও জোটবদ্ধ প্রতিরোধের বার্তা দিলেন বিভিন্ন বাম নেতারা।
বিভিন্ন বাম দলের আহ্বানে শনিবার যাদবপুর এইট-বি’তে ‘ঐক্যবদ্ধ হোক বাংলার গণপ্রতিরোধ’, এই ডাক দিয়ে জনসভায় ছিলেন, লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, আরএসপি-র সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভট্টাচার্য, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা দেবব্রত রায় প্রমুখ। সাম্প্রতিক সময়ে সুভাষচন্দ্র বসু, সুকান্ত ভট্টাচার্য, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, শঙ্খ ঘোষকে অবমাননার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও বিজেপি-আরএসএসকে নিশানা করেছেন সেলিম, দীপঙ্করেরা।
দিল্লি এবং তার পরে কলকাতা ও পটনার ছাত্র আন্দোলন, তার প্রেক্ষিতে বাম-ঐক্যের সুর ধ্বনিত হয়েছে বলেই মনে করছেন বাম-নেতৃত্ব। এই সূত্রেই ঐক্য-কথায় জোর দিয়ে সেলিমের বক্তব্য, “সংবিধান বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের মেলবন্ধনে তৈরি। সংবিধান প্রণেতারা দেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই সংবিধানের রূপরেখা তৈরি করেছেন। কিন্তু, বর্তমানে সেই সংবিধানকে দুরমুশ করে নিজেদের সুবিধাবাদের রাজনীতি কায়েম করার চেষ্টা চলছে।”
শাসকের এই রাজনীতিকে পরাস্ত করার লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থীদের একতার পক্ষে বার বার সওয়াল করেছেন লিবারেশনের দীপঙ্কর-সহ অন্যেরা। দীপঙ্কর বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থার শিকড় অনেক গভীরে। আজ আবার বিদ্রোহের সময়। ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের মুখে দাঁড়িয়ে আমরা। কিন্তু আমরা যাঁরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে পারি, তাঁরা জানি, শেষ কথা বলে মানুষের ঐক্য। বামপন্থীদের মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।” বিজেপি-আরএসএসের রাজনীতিকে নিশানা করে বামপন্থীদের ঐক্যের কথা বলেছেন স্বপন, মনোজ, দেবব্রতেরাও।