E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সাগরে নয়া নিম্নচাপ, শুরু ঘূর্ণিঝড়ের চর্চা

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলছেন, ‘‘অক্টোবর ও নভেম্বর মাস এমনিতেই ঘূর্ণিঝড় তৈরির মরসুম। তাই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তবে নিম্নচাপ দানা বাঁধার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।’’

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পুজো পেরোতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলেছে নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের খবর, আজ, শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি দানা বাঁধতে চলেছে। তারপরে এটি শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। এই পূর্বাভাসের জেরেই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে চর্চা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগ অবশ্য বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত কোনও পূর্বাভাস দেয়নি। তবে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছেন না আবহবিজ্ঞানীরা। আবহাওয়া পূর্বাভাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও ঘূর্ণিঝড়ের আভাস দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল গোকুলচন্দ্র দেবনাথ বলছেন, ‘‘অক্টোবর ও নভেম্বর মাস এমনিতেই ঘূর্ণিঝড় তৈরির মরসুম। তাই নিম্নচাপ শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। তবে নিম্নচাপ দানা বাঁধার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।’’ আবহাওয়া দফতরের কর্তারা বলছেন, উপগ্রহ-চিত্র মারফত নিম্নচাপের পরিস্থিতি নজরদারি চলছে।

নিম্নচাপ-ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তার কী প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। আবহবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এখনও নিম্নচাপটি দক্ষিণ ভারতের দিকেই যাবে বলে মনে হচ্ছে। নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেও তার গতিপথ বদলানোর আশঙ্কা কম। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে হয় তো বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। তবে উপকূলীয় জেলাগুলিতে বৃষ্টি মিলতে পারে।

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই বর্ষা (দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু) বিদায় নিয়েছে। পুজোয় তেমন বৃষ্টি হয়নি। বরং সকালে বা রাতে বিক্ষিপ্ত ঠান্ডা হাওয়া মিলছে। আপেক্ষিক আর্দ্রতাও আগের থেকে কম থাকছে। গ্রামেগঞ্জে হিমেল ভাবও মিলছে। আবহবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, নিম্নচাপ যদি সরাসরি বঙ্গে না-ও আসে, তা হলেও বঙ্গোপসাগর থেকে বাতাস গাঙ্গেয় বঙ্গে ঢুকবে। নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সাগরের বাতাসের প্রভাব আরও বাড়বে। তার জেরে বৃষ্টি যেমন হবে, তেমনই হেমন্তের ভাবও উধাও হবে। আগামী সপ্তাহের গোড়ায় তেমন উপদ্রবের আশঙ্কা করছেন আবহবিজ্ঞানীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, দিন দু-তিনেক ওই পরিস্থিতি থাকতে পারে।’’

তা হলে কি আপাতত মুথ থুবড়ে পড়বে হেমন্ত?

হাওয়া অফিসের এক বিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘নিম্নচাপ কত দূর শক্তি বাড়ায় ও কোন দিকে বয়ে যায়, তার উপরেই নির্ভর করছে বাংলার আবহাওয়া। মতিগতি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Weather

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy