কলকাতায় মিছিল ডেকেও পুলিশি আপত্তিতে সভা করেই সেই কর্মসূচিতে ইতি টানল মমতা-তৃণমূল। রাজাবাজারে মিছিল শুরুর সময়ে পুলিশের তৈরি ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা হলেও শেষপর্যন্ত অশান্তি ছাড়াই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা সরে গিয়েছেন। এই কর্মসূচি সম্পর্কে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ অবশ্য বলেছেন, ‘‘মিছিলের কথা পুলিশকে জানানো হয়নি। কোনও অনুমতিও ছিল না।’’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চলছেই। সে ভাবেই মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিলের কর্মসূচি নিয়েছিল মমতা-তৃণমূল। দলের ছাত্র, যুব ও প্রচার শাখার উদ্যোগে এই মিছিল নিয়ে অবশ্য সোমবারই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরে উৎসবের ব্যস্ততার মধ্যে এ দিন মিছিল শুরুর আগেই বিরাট পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়। নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। ঘোষণা মতো কর্মী-সমর্থকেরা পৌঁছলে মিছিলে শামিল হন দলের সাংসদ দোলা সেন, বিধায়ক কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোক দেব ও অন্য নেতারা। মিছিল শুরুর আগে পুলিশের তরফে আপত্তির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষণ বাগ্বিতণ্ডার পরে নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতায় বক্তৃতা করে কর্মসূচি শেষ করে দেন। মিছিল যাওয়ার কথা ছিল পার্ক সার্কাসে। তবে জমায়েত ও পুলিশি ব্যবস্থার কারণে দুপুর থেকে ঘণ্টাদুয়েক শিয়ালদহের চারপাশ জুড়ে যানজট তৈরি হয়েছিল।
পরে কুণালের দাবি, ‘‘ভয় দেখাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, মিছিল করতে দেবেন না। আমাদের কর্মী-সমর্থকেরা প্রশাসনের সেই হুমকি অমান্য করে শক্তি দেখিয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘দেশ জুড়ে আন্দোলন চলছে। মমতাদি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের নেতারা থাকছেন। ভবিষ্যতে এ রাজ্যেও জোরদার আন্দোলন হবে।’’ মিছিলে স্লোগান ওঠে, ‘ভোট চোর, গদি ছোড়।’ যে স্লোগান নিয়ে এসেছিল রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস!
পুজোর মধ্যেই এ দিন সন্ধ্যায় হাজরা মোড় থেকে মশাল মিছিল হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভানেত্রী মিতা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে। ভোটার তালিকায় কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবির পাশাপাশি ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ ডাক দিয়ে হয়েছে মিছিল। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে গিয়ে এ দিনই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘দেশ জুড়ে ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমার মোদীকে বাঁচাবেন, নাকি মোদী জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাবেন, এ নিয়ে খেলা জমে উঠেছে! ফর্ম-৬ এবং ফর্ম-৭ নিয়ে যে জালিয়াতি হয়েছে, তা আরএসএসের লোক ও বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে করানো হয়েছে, যার খবর কমিশনের অন্য দুই সদস্যের কাছেও নেই।’’