এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। এ বার কেন্দ্রীয় একটি প্রকল্পে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৬০টি গ্রামকে ‘আদর্শ’ (মডেল) গ্রাম হিসাবে গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই গ্রামগুলি তফসিলি জাতি (এসসি) অধ্যুষিত। শুরু হয়েছে প্রশাসনিক সমীক্ষা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পটির নাম ‘প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনা’ সংক্ষেপে ‘পিএম অজয়’। তাতেই তফসিলি জাতি অধ্যুষিত ওই সংখ্যক গ্রাম ‘আদর্শ’ গ্রাম হিসাবে গড়ে উঠবে। বিশেষ এই প্রকল্পের লক্ষ্য তফসিলি জাতি প্রধান গ্রামের সমন্বিত উন্নয়ন এবং আর্থ সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা। জানা যাচ্ছে, যে সব গ্রামে ৫০০-র বেশি মানুষের বসবাস এবং বসবাসকারীদের মধ্যে ৪০ শতাংশের বেশি তফসিলি জাতির, সেই গ্রামগুলিই এই তালিকাভুক্ত হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ২১টি ব্লক রয়েছে। মোহনপুর বাদে বাকি ২০টি ব্লকেই কমবেশি এমন গ্রাম রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই জেলায় যে ৪৬০টি গ্রামকে ‘আদর্শ’ হিসাবে গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে, তারমধ্যে মেদিনীপুর (সদর) মহকুমার ৬টি ব্লকে রয়েছে ২০৯টি গ্রাম। খড়্গপুর মহকুমার ৯টি ব্লকে (মোহনপুর বাদে) রয়েছে ১২৩টি গ্রাম। ঘাটাল মহকুমার ৫টি ব্লকে রয়েছে ১২৮টি গ্রাম। দেখা গিয়েছে, ওই ৪৬০টি গ্রামে বাড়ি রয়েছে সবমিলিয়ে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৪৬৩টি। এরমধ্যে মেদিনীপুর (সদর) মহকুমার ওই ২০৯টি গ্রামে ৬২ হাজার ১৯৫টি। খড়্গপুর মহকুমার ১২৩টি গ্রামে ৩৬ হাজার ৪৪৩টি। ঘাটাল মহকুমার ১২৮টি গ্রামে ৪৯ হাজার ৮২৫টি।
গত বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই বিজেপি বলে এসেছে যে, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হলে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুফল মিলবে। জানা যাচ্ছে, ওই সব তফসিলি জাতি অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে নানা ক্ষেত্রের উন্নয়ন হবে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন থেকে কর্মসংস্থান, স্থানীয়দের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও নজরে থাকছে। কেন্দ্রীয় অনুদান মিলতে পারে দফায় দফায়। আগামী পাঁচ বছর ধরে। ইতিমধ্যে এই গ্রামগুলিতে প্রশাসনিক পরিদর্শন শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এই গ্রামগুলিতে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে।’’ গ্রামে কী রয়েছে, কী নেই, সার্বিক উন্নয়নে কোন ক্ষেত্রে কী করা প্রয়োজন, সে সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, কোন গ্রামে কী কী কাজ করা প্রয়োজন, তার তালিকা তৈরি হবে। সেই তালিকা গ্রামসভায় পাশ করানো হবে। ওই আধিকারিক বলেন, ‘‘ওই সব গ্রামে সব রকম সুযোগ-সুবিধা থাকবে। প্রতিটি আদর্শ গ্রামের মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাও এই প্রকল্পের লক্ষ্য।’’ আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গ্রামপিছু ব্যয় হতে পারে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।