ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকায় বড় পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজের মজুত রয়েছে কি না জানতে শুরু হচ্ছে যৌথ ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা। কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক সংস্থার ওই সমীক্ষা করার কথা। চিহ্নিত কয়েকটি এলাকায় চলতি মাসেই তা শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার, সমাজমাধ্যমে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা অমিত মালবীয়ও।
সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের ডিরেক্টরেট অফ মাইনস অ্যান্ড মিনারেলসের উদ্যোগে হওয়া এই সমীক্ষায় অংশ নেবে ম্যাঙ্গানিজ ওর ইন্ডিয়া লিমিটেড, জিওল্যাজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জিএসআই), ইন্ডিয়া ব্যুরো অফ মাইনস (আইবিএম) এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল মিনারেল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড। গত ১৯ অগস্ট রাজ্যের ডিরেক্টরেট অফ মাইনস অ্যান্ড মিনারেলসের তরফে ম্যাঙ্গানিজ ওর ইন্ডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টরকে পাঠানো চিঠিতে যৌথ সমীক্ষার অনুমোদনের কথা জানানো হয়েছে।
বেলপাহাড়ির বিভিন্ন এলাকায় এমনিতেই নানান পাথর মেলে। জামবনির সেবাভারতী মহাবিদ্যালয়ের ভূগোলের অধ্যাপক প্রণব সাউ বলছেন, ‘‘বেলপাহাড়ির বিভিন্ন অঞ্চলে দেড় থেকে দু’হাজার বছর ধরে তামার আকরিক চ্যালকো পাইরাইট মেলে। এখানে চুনাপাথর ও নরম স্লেট পাথরও পাওয়া যায়। এ বার ম্যাঙ্গানিজের খোঁজ পাওয়া গেলে সেটা নতুন সংযোজন হবে।’’ একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করাচ্ছেন, প্রাকৃতিক এই সম্পদ উত্তোলন করা হলে এলাকার আর্থ সামাজিক পরিবেশে বদল ঘটার সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলপাহাড়ির শিমূলপাল, লবণী, ভান্ডারচুয়া, চাউকা পাহাড়, হাসা ডুংরি, চালকিসশোল, বীরমদাল এবং বাঁশপাহাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সমীক্ষা চালানো হবে। ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সমীক্ষা হওয়ার কথা। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও নানা কারণে তা হয়নি। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে যৌথ সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।’’