E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

স্বামী নিখোঁজ ২২ বছর, শংসাপত্রের সমাধান শিবিরে

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সর্বাধিক সাত বছর নিখোঁজ থাকলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা যেতে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অগস্ট ২০২৬ ০২:৩৩
পুলিশের অভিযোগ নিষ্পত্তি শিবির।

পুলিশের অভিযোগ নিষ্পত্তি শিবির। নিজস্ব চিত্র।

দু’দশক ধরে খোঁজ পাননি স্বামীর। হদিস না মেলায় নিখোঁজ স্বামীর উত্তরাধিকারী হিসেবে শংসাপত্রও মেলেনি। এ দিকে শংসাপত্র না মেলায় পারিবারিক কিছু জটিলতায় পড়তে হয়েছিল স্ত্রী পরীবালা মণ্ডলকে। জন অভিযোগ নিষ্পত্তি শিবিরে গিয়ে দীর্ঘ সময়ের সমস্যার সমাধান হল একদিনে। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, এ বার উত্তরাধিকারী হিসেবে শংসাপত্র মেলাটা সময়ের অপেক্ষা।

নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুরের বাসিন্দা পরীবালা। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ২০০৪ সালে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাঁর স্বামী সুরেশ মণ্ডল (৬৮)। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে আর খোঁজ মেলেনি সুরেশের।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সর্বাধিক সাত বছর নিখোঁজ থাকলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা যেতে পারে। ওই ব্যক্তির পরিবারকে মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। সুরেশের সন্ধান না মেলায় পারিবারিক জমি ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যায় পড়েন সদস্যরা। দীর্ঘদিন জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সোমবার মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত দফতরে যান পরীবালা। সেখানে তিনি স্বামীর উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত্যুর শংসাপত্র নিতে চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার বর্মা বলেন, ‘‘পরিবারের কয়েক জন সদস্যের সঙ্গে ওই মহিলা জন অভিযোগ নিষ্পত্তি শিবিরে এসেছিলেন। তিনি তাঁর অসুবিধার কথা জানানোর পর একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে উনি উত্তরাধিকারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শংসাপত্র পাবেন।’’

এ দিন থেকে জেলা পুলিশের উদ্যোগে নন্দীগ্রামের দু’টো ব্লকে জন অভিযোগ নিষ্পত্তি শিবির শুরু হয়েছে। ব্লক দু’টির প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে আগামী এক মাস ধরে চলবে এই শিবির। উভয় পক্ষকে বসিয়ে সমাধান করা যাবে এ রকম সমস্যা শুনে তৎক্ষণাৎ তার সমাধান করছেন পুলিশ আধিকারিকেরা। শিবিরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট-সহ উচ্চ পদমর্যাদার আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন। সেপ্টেম্বর থেকে জেলার অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে এই শিবির হবে বলে খবর।

২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলন পর্বে কয়েকজন আন্দোলনকারী নিখোঁজ হয়েছিলেন। এক দশক বাদে মৃতের শংসাপত্র পেতে চেয়েছিলেন নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন। সে সময় তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত সেই শংসাপত্র দেয়নি। এর পর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে শংসাপত্র পান নিখোঁজের পরিবারের সদস্যরা।

জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, এ বার সেই জটিলতা তৈরি হবে না নিখোঁজ সুরেশের ক্ষেত্রে। সুরেশের স্ত্রী পরীবালা বলছেন, ‘‘এতদিন ভাবতাম কী ভাবে স্বামীর কাগজপত্র পাব! কিন্তু আজ পঞ্চায়েতে শিবিরে গিয়ে সেই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে। পুলিশের তরফে যে মামলা করা হয়েছে তার নথি দেখিয়ে দু’একদিনের মধ্যে শংসাপত্র পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Nandigram

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy