রান্নার গ্যাসের নতুন সংযোগ মিলছে না। অথচ গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ উঠছে ঝাড়গ্রাম শহরের বুকে। ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। ১৩০টি সিলিন্ডার ও ৫৪টির বেশি গ্যাসের বই উদ্ধার হয়েছে। নতুন সংযোগ বন্ধ থাকার পরেও এত গ্যাস আসছে কোথা থেকে তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
শহরের এক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, নতুন সংযোগের জন্য তিন মাস ধরে গ্যাসের অফিসে যাচ্ছি। কিন্তু সংযোগ মিলছে না। এ দিকে কালোবাজারি চলছে। ঝাড়গ্রামের এক গ্যাসের ডিলার বলছেন, “গ্যাস সরবরাহ সংস্থা থেকে নতুন সংযোগ দেওয়া নিষেধ রয়েছে।” তাঁর দাবি, কালোবাজারির সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই।
অভিযোগ, শহরের ঘোড়াধরায় দু’টি বাড়িতে রমরমিয়ে চলত অবৈধ রান্নার গ্যাসের কারবার। শনিবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়গ্রাম থানা থেকে ১০০ মিটার দূরে প্রবীর পালের বাড়িতে হানা দেয়। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৬০টির বেশি গ্যাস উদ্ধার হয়। প্রবীরকে জেরা করে অশোকের সন্ধান পায় পুলিশ। অশোকের বাড়ি থেকেও বহু রান্নার গ্যাস বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, বছরের পর বছর এঁরা গ্যাসের কারবার করছেন। সবাই সব কিছু জানেন। অথচ সাধারণ মানুষ গ্যাসের দোকানে লাইন দিয়ে হয়রান হচ্ছে।
অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রবীর পাল, বাপি মাহাতো ও অশোক সাউকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, অধিকাংশই উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্যাস। ধৃতদের থেকে গ্যাসের বই মিলেছ। সেই বই ধরে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, অনেক গ্রাহকের বাড়িতে একাধিক সংযোগ থাকায় অনেক গ্যাস চড়া দামে বিক্রি করতেন। সেই গ্যাস অভিযুক্তেরা কিনে আবার কালোবাজারি করতেন।
ধৃত তিনজনকে রবিবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়। প্রবীরকে তিনদিন পুলিশ হেফাজত এবং বাকি দু’জনকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “থানার সামনে দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাসের কালোবাজারি চলছিল। এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার মদত ছিল। সেজন্য এতদিন ধরা পড়েনি।” যদিও কালীঘাটপন্থী এক তৃণমূল নেতার দাবি, “গ্যাসের কালোবাজারির সঙ্গে দলের কেউ জড়িত নেই।”