E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সরকার পরিবর্তনের পরেও সৈকতে চলছে দেদার বেআইনি নির্মাণ

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা বারবার বলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের তাবড় মন্ত্রীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৪৯
মন্দারমণির মোহনায় টিন দিয়ে ঘিরে রেখে সমুদ্র সৈকতের একেবারে গায়ে বহু তল হোটেল নির্মাণের কাজ চলছে।

মন্দারমণির মোহনায় টিন দিয়ে ঘিরে রেখে সমুদ্র সৈকতের একেবারে গায়ে বহু তল হোটেল নির্মাণের কাজ চলছে। নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও সৈকত শহর মন্দারমণিতে নিয়ম ভেঙে অবৈধ নির্মাণ গড়ার প্রবণতায় বদল আসেনি বলে অভিযোগ। এখানে কোথাও সমুদ্রের গা ঘেঁষে আবার কোথাও পাট্টা জমির উপর মাথা তুলছে বহুতল হোটেল এবং লজ। কিন্তু তৃণমূল জমানার মতো বিজেপি জমানাতেও কোথাও প্রশাসনিক ভাবে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বেআইনি নির্মাণ নিয়ে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা বারবার বলে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের তাবড় মন্ত্রীরা। কিন্তু, দিঘার অদূরে পর্যটনকেন্দ্র মন্দারমণির পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি। বরং স্থানীয়েরা বলছেন, রামনগর-২ ব্লকের মন্দারমণি, দাদনপাত্র বাড়, সিলামপুর, সোনামুই এবং পুরুষোত্তমপুর মৌজায় কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যে সমুদ্র উপকূলের ধারে বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণ নতুন করে শুরু হয়েছে।

কালিন্দীর এক প্রমোটার বলছেন," দীর্ঘদিন আগে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কারও টাইলস বসানো, আবার কারও সুইমিং পুলের কাজ বাকি রয়েছে। প্রচুর উপকরণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে প্রশাসনকে জানিয়েই কাজ করা হচ্ছে।" কিন্তু, যেসব নির্মাণ কাজ গোড়া থেকে বেআইনিভাবে শুরু হয়েছে তাদের কী ভাবে কাজ শেষ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? যদিও প্রোমোটারদের দাবি অস্বীকার করেছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। তাঁদের দাবি, কোনও অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, এমনিতে, মন্দারমণিতে ১৪৪টি হোটেল ভাঙার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় পরিবেশ আদালত। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছে স্থানীয় হোটেল মালিক সংগঠন। ওই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী অক্টোবরে। আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তা সত্ত্বেও নতুন করে কী ভাবে মাথা তুলছে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ?

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন,"খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।" স্থানীয় হোটেল মালিক সংগঠনের কর্মকর্তা অশোক কুমার আদক বলছেন,"হোটেল নির্মাণের বিষয়টি সংগঠনের এক্তিয়ারে পড়ে না।" যদিও সংগঠনের মাথায় বসে থাকা একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোটা এলাকায় প্রমোটারি এবং সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ করছেন এলাকার বাসিন্দারাই। এ বিষয়ে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডলের উক্তি," প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।"

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Illegal Construction Hotel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy