মন্দারমণিতে স্নান করতে নেমে জোয়ারের তোড়ে তলিয়ে যাওয়া তিন জনের মধ্যে উদ্ধার হল আরও এক জনের দেহ। সোমবার রাতে সমুদ্র থেকে বৃষ্টি শীল (১৮) নামে এক তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। তবে এখনও খোঁজ মেলেনি সুমন শীলের (২৪)। তাঁর সন্ধানে সমুদ্রে টানা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, নুলিয়া ও পুলিশ।
সোমবার দুপুরে মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটে একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে আচমকা জোয়ারের মুখে পড়ে তলিয়ে যান বৃষ্টি, সুমন এবং ১০ বছরের নাবালক সোমনাথ হালদার। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সোমনাথকে উদ্ধার করে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চোখের সামনে সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সন্তু হালদার। নাবালকের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আগেই সামনে এসেছিল। কিন্তু বাকি দু’জনের খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে রাতে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার হয়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্তরা সকলেই নদিয়া জেলার বাসিন্দা। তবে তাঁরা নিছক পর্যটক ছিলেন না, কাজের সূত্রে দিঘা মোহনায় থাকতেন। সেখান থেকেই সোমবার আট জনের একটি দল টোটো ভাড়া করে মন্দারমণিতে ঘুরতে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেই সময়ে সমুদ্র যথেষ্ট উত্তাল ছিল। তা সত্ত্বেও তাঁরা গভীর জলে নেমেছিলেন।
বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে এই বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, “সৈকতে মানুষকে সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকে প্রচার করা হয়। নজরদারির জন্য নুলিয়াদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ নিজে থেকে সচেতন না হলে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সত্যিই কঠিন।” আপাতত নিখোঁজ যুবকের সন্ধানেই পুরো নজর রাখছে উদ্ধারকারী দল।