বাইক নিয়ে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। অচেনা রাস্তাকে চিনতে দু’চাকার যান ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। সেই বাইক দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হল কলকাতার বাইক রাইডার দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রবিবার বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। সোমবার দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে।
৪৪ বছরের দেবাহুতির বাড়ি দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায়। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বিকেলে খড়্গপুর লোকাল থানার বালিহাটি এলাকায় জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন দেবাহুতি। কলকাতা থেকে আটটি বাইক নিয়ে মোট ১৫ জন ওড়িশার চাঁদিপুর বেড়াতে গিয়েছিলেন। শুক্রবার ওড়িশা থেকে বাইক নিয়ে ফিরছিলেন তাঁরা। রবিবার খড়্গপুর হয়ে কলকাতা যাওয়ার পথে একটি গর্তে পড়ে যায় দেবাহুতির বাইকের চাকা। বাইকের গতি ছিল ভালই। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন ওই মহিলা। বাইক রাইডিং দলে দেবাহুতির পুত্রও ছিলেন। ছেলের উপস্থিতিতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মা। দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া অনিকেত মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমি সামনের বাইকে ছিলাম। মা ছিল মাঝের দিকে একটি বাইকে। যখন খবর পেলাম দুর্ঘটনার, তখন বাইক ঘোরানো হয়। মাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা এলাকার কাঁসাই ব্রিজের কাছে একটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।’’
অনিকেত জানান, তাঁর মা ছাড়াও আরও এক জন বাইক থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। মা কতটা আঘাত পেয়েছেন, প্রথমে ঠাহর করতে পারেননি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর দেবাহুতির দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পরিবার সূত্রে খবর, দেবাহুতি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। নেশা ছিল বাইক রাইডিং। ছুটির দিন হলেই দল বেঁধে বেরিয়ে পড়তেন তাঁরা। তাঁর অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সঙ্গীরা।