খাতায়-কলমে জমি সেচ দফতরের। তার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে জোয়ার-ভাটা খাল। কিন্তু সেই খালের বুকেই গড়ে উঠেছে ৩০-৩৫টি স্টল। এতে বাধা পাচ্ছে এলাকার জল নিকাশি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি।
কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের ছনবেড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই জোয়ার-ভাটা খাল গ্রামের একেবারে মাঝখান দিয়ে গিয়েছে। গোটা গ্রামের জল নিকাশির প্রধান মাধ্যম ছিল খালটি। বিগত সরকারের আমলে খালের উপরে এক এক করে স্টল তৈরি হয়। আপাতত সেখানে ৩০-৩৫ টি স্টল রয়েছে। ফলে, অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে খাল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি পিন্টু গিরি-সহ কয়েকজন দাপুটে নেতা বেআইনি ভাবে স্টলগুলি তৈরি করেছেন। সেখানে কেউ চিংড়ির আড়ত করেছেন, কারও রয়েছে অন্য দোকান। তৃণমূল আমলে স্থানীয়রা বিডিও, মহকুমাশাসক-সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে দাবি।
রাজ্যে পালা বদলের পরে এ বছর বর্ষায় ফের নিকাশি সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এলাকাবাসী। বিডিও, জেলাশাসক-সহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তাঁরা। এখন বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে সব তৃণমূল নেতা ওই কাণ্ড করেছিলেন, তাঁরা এখন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিকাশি আটকে বহাল তবিয়তে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। সুবল পয়ড়্যা, মানিক দাস, উত্তম গিরির মতো স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, ‘‘রাজ্যের নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ রাখা হবে না। তাই আশা নিয়ে প্রশাসনে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।’’ বিডিও দেশপ্রাণ অরুণ পাত্র অবশ্য বলেন, ‘‘বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’
অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি পিন্টুর সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর মোবাইল বন্ধ ছিল। আর তৃণমূল-বিজেপির বোঝাপড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ‘‘দলের কেউ বেআইনি কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে পদক্ষেপ করা হবে। তা ছাড়া সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকলে সেটাও আমরা প্রশাসনের নজরে আনব।’’